ফের রাজনীতির মাঠে আধুনিক মালয়েশিয়ার রূপকার, মাহাথির মোহাম্মাদ। উত্তরসূরী নাজিব রাজাকের দুর্নীতির জেরে, এবার ভোটযুদ্ধে নেমেছেন নিজ দলের বিরুদ্ধেই। আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে বিরোধী জোটে যোগ দিয়ে, জন্ম দিয়েছেন নতুন রাজনৈতিক কাঠামো। তাই, টানা ৫ বারের প্রধানমন্ত্রী মাহাথিরকে নিয়ে মালয়েশিয়ার রাজনীতিতে লেগেছে পালাবদলের হাওয়া।
নতুন মেরুকরণে মালয়েশিয়ার রাজনীতি। প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে, এবার একই মঞ্চে এক সময়ের প্রতিপক্ষ দুই নেতা মাহাথির মোহাম্মাদ এবং আনোয়ার ইব্রাহিম। আগস্টের নির্বাচনে জিতলে, ৯২ বছর বয়সী মাহাথিরই হবেন, বিশ্বের প্রবীণতম রাষ্ট্রনেতা।
কুয়ালালামপুরে এখন দুই দশক আগের রাজনীতির আমেজ। ৯০'র দশকের ঘনিষ্ট সহচর, আনোয়ারের সঙ্গে মাহাথিরের বিরোধ চরমে ওঠে ১৯৯৮ সালে। অনৈতিক যৌনাচার ও দুর্নীতির অপবাদে তাকে উপ-প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বহিষ্কার করেন মাহাথির।
২০১৩ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলকে নেতৃত্ব দিলেও, ২০১৫ সাল থেকে কারাভোগ করছেন আনোয়ার। আগামী নির্বাচনে বিরোধীদলের জোট পাকাতান হারাপান জিতলে, তিনি পেতে পারেন রাজকীয় ক্ষমা। সেই লক্ষ্যেই পুরোনো শত্রুতা ভুলে, মাহাথিরের সঙ্গে হাত মিলিয়েছেন আনেয়ারের স্ত্রী আজিজাহ।
আমরা পরিবর্তন ও সংস্কারের লক্ষ্যে কাজ করছি। স্বাধীনতা, ন্যায়পরায়নতা, মনবতা ও সুবিচারের পক্ষে আমরা। আমাকে উপ-প্রধানমন্ত্রী পদে মনোনয়ন দেয়ায় আমি কৃতজ্ঞ।
২০১৬ সালেই নিজ দল ইউনাইটেড মালয়স ন্যাশনাল অর্গানাইজেশন (UMNO) ছেড়েছেন মাহাথির। প্রধানমন্ত্রী নাজিবের পক্ষে অনড় থাকায়, এবারের নির্বাচনে আধুনিক মালয়েশিার স্থপতির মুখোমুখি হতে হবে ইউএমএনও-কে। তবে থেমে নেই ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা। মাহাথিরের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে শুরু হয়েছে তুমুল প্রচারণা।
মালয়েশিয়াকে পতনের দিকে নিয়ে গেছেন মাহাথির। তাকে ক্ষমতায় আনা হলে, পুরোনো ভুলগুলোই তিনি আবার করবেন। পাকাতান হারাপানের কাছে তার চেয়ে যোগ্য কোনো প্রার্থীও নেই।
২০১৩ সালের নির্বাচনে পপুলার ভোট কম পেলেও, বেশি আসন পেয়ে সরকার গঠন করে ক্ষমতাসীন জোট। তবে, ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগের পাশাপাশি মাহাথিরের রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনে, এবার বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে নাজিব রাজাক।
এসএম





