ভারতের নয়াদিল্লিতে ইন্টারনেটভিত্তিক ট্যাকি সার্ভিস উবের কোম্পানির একটি ট্যাক্সিতে ধর্ষিত হওয়া সেই নারী এবার সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বললেন। জানালেন তার মনঃকষ্টের কথা। নিজের ভেতরে প্রতিনিয়ত পুড়তে থাকার কথা।

বৃহস্পতিবার ভারতের একটি সংবাদমাধমের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন ২৬ বছর বয়সি সেই নিগৃহীত নারী। তার কথাগুলো সংক্ষেপে তুলে ধরা হচ্ছে-'আমি এখনো ঠিক করে ঘুমাতে পারি না। ওই রাতের স্মৃতি আমাকে তাড়া করে বেড়ায়। সব সময় একটা ভয় যেন আমার মধ্যে বাসা বেধে রয়েছে। একা কোথাও বের হতে পারি না। ওই ঘটনা আমার মনে ভয়ানক প্রভাব ফেলেছে।'

'আমি সব সময় অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছি। এমনকি আমার কাছের কোনো মানুষের অন্যায় আচরণ দেখলেও আমি আপত্তি জানিয়েছি। সেই কারণে ওই ঘটনার পর বাড়িতে জানানোর আগে আমি পুলিশকে জানাই।'

'নারীদের নিরাপত্তার ব্যাপারটা আমাকে সব সময় ভাবায়। সরকার অবশ্যই পদক্ষেপ নিচ্ছে, কিন্তু তা যথেষ্ট নয়। সমাজে একটা কঠিন বার্তা দেওয়া দরকার ছিল। এ রকম অপরাধী আরো বহু আছে, এমন ঘটনারও অভাব নেই।'

'এটা ভেবেই আমার অবাক লাগে, উবেরের ওই চালক সেদিন আমার শরীরে লোহার রড ঢুকিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। ওর মধ্যে কোনো ভয় তো ছিলই না, বরং এর আগে বাসে গণধর্ষণে নিহত ‘নির্ভয়ার পরিণতিকে’ আমাকে ভয় দেখাতে ব্যবহার করে।'

'আমি চাই ওই লোকটার কঠিন শাস্তি হোক। শুধু তাই নয়, উবের কোম্পানির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হোক। অপরাধীর শাস্তি না হলে আমরা সমাজ হিসেবে, প্রশাসন হিসেবে, দেশ হিসেবে, সর্বোপরি মানব জাতি হিসেবে ব্যর্থ প্রমাণিত হব।'

'দিল্লি পুলিশের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। তারা আমার সঙ্গে যথেষ্ট ভালো ব্যবহার করেছে এবং দ্রুত অপরাধীকে গ্রেফতার করেছে। আমি তো তাদের (পুলিশ সদস্য) কিছু একটা পুরস্কার দিতে চেয়েছিলাম। তারা না করে দেন। আমি জোর করলে একজন সিনিয়র অফিসার (তদন্ত)পুরো দলটাকে এক কাপ করে কফি খাইয়ে দিতে বলেন।'

'এবার আমি সামনের দিকে তাকাতে চাই। আমার কেরিয়ারকে গুছিয়ে নিতে চাই। কিন্তু এর মধ্যেই আমার প্রতিবেশীদের অনেকেই আমার চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা শুরু করে দিয়েছে। এমনকি আমি পুলিশকে এই ঘটনা কেন জানালাম, তা নিয়েও প্রশ্ন করেছে। মনে হচ্ছে, ধর্ষণের পরেই যেন প্রতিদিন ধর্ষিত হচ্ছি আমি। তবে আমার পরিবার আমার পাশে রয়েছে।'

'আমি চাকরিতে যোগ দিয়েছি। অফিসে সবাই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সিনিয়ররাও এসে বারবার আমার খোঁজখবর নেন।'

'আমার মনে হয় এই সব ক্যাবে নারীচালক থাকা দরকার। এ ছাড়া পুলিশ পেট্রোলিং আরো বাড়ানো প্রয়োজন। একা একটি মেয়ে ক্যাবে উঠলে, তার আগে গাড়ি ও তার চালকের সম্পর্কে ঠিকমতো খোঁজখবর সেই কোম্পানিকেই নিয়ে রাখতে হবে। উবের এই কাজটা করলে, এই ঘটনা ঘটত না।'

'নতুন প্রজন্মেরে উদ্দেশে আমার একটাই বক্তব্য, এগিয়ে এসো, নিজেদের কথা জোর গলায় বলো, চুপ করে থেকো না।'

ইআর