বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার নীলফামারির জনসভা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলনের খবর পাশাপাশি ছাপা হওয়ায় প্রিন্ট মিডিয়ার ওপর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানালেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ এম মাহমুদ আলী।
আজ (শুক্রবার) সকালে মন্ত্রনালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ প্রতিক্রিয়া জানান। আগামী ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সংযুক্ত আরব আমিরাত সফর এবং ২৭ থেকে ২৯ অক্টোবর রাষ্ট্রপতির দুবাই সফর প্রসঙ্গে আয়োজন করা হয় এই সংবাদ সম্মেলনের।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্ধারিত বক্তব্যের পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নোত্তর পর্বে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নীলফামারির জনসভায় দেয়া বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন।
তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, বর্তমান সরকারকে কোন দেশ স্বীকৃতি দেয়নি। এটা একটা দায়িত্বজ্ঞানহীন ও বালখিল্যসুলভ বক্তব্য ছাড়া আর কিছু নয়।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী জাতিসংঘের অধীন বিভিন্ন ফোরামে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ পদ লাভ করাসহ ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী বর্তমান সরকার যেসব আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে ভূমিকা রাখছে তার উল্লেখ করে পাল্টা প্রশ্ন ছুড়েন-বেগম খালেদা জিয়া কি এসব খবর রাখেন না?
তিনি এ সময় সাংবাদিকদের প্রতি ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, আপনারা খালেদা জিয়ার নীলফামারির জনসভার বালখিল্যসুলভ বক্তব্যের ব্যাপারে প্রশ্ন না করে অন্য বিষয়ে কেন এত প্রশ্ন করছেন?
বেগম খালেদা জিয়ার নীলফামারির জনসভা এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ইতালি সফর নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনের খবর পাশাপাশি বিভিন্ন পত্রিকায় ছাপা হওয়ার সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পাল্টা প্রশ্ন করেন, দুটো খবরের মেরিট কি এক? কেন দুটো খবর পাশাপাশি ছাপা হলো? এটা কি ঠিক হলো?
এর আগে লিখিত বক্তব্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী সংযুক্ত আরব আমিরাত সফরকালে তিনি সে দেশের সরকার প্রধানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করবেন।
তার সফরে জনশক্তি রপ্তানি, মানব সম্পদের উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন ও ভিসা সহজীকরণসহ দুই দেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা হবে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সাথে বাংলাদেশের যেই বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে তা দূরীকরণের বিষয়টিও প্রধানমন্ত্রীর সফরে গুরুত্ব পাবে বলেও জানান মন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সফরের পর পরই আরবভূক্ত আরেক দেশ দুবাইয়ে রাষ্ট্রপতির সফরে আরব বিশ্বের সাথে বাংলাদেশের সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে বলেও জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
২০১২ সাল থেকে দুবাইয়ে বন্ধ থাকা জনশক্তি রপ্তানি আবার শুরুর সম্ভাবনা আছে কীনা এই দুই সফরের পরে-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, পর পর দুটো সফরের মধ্য দিয়ে আমরা আশা করছি আরব বিশ্বের সাথে ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক যা ১৯৭৪ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সফরের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল তা আরও সম্প্রসারিত হবে।
বাংলাদেশে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মানে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আগ্রহের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর সফরে আলোচনায় আসবে কীনা জানতে চাইলে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গভীর সমুদ্রবন্দর নির্মানে অনেকগুলো দেশের প্রস্তাব আছে, সবগুলোই বিবেচনায় রেখে সরকার অগ্রসর হচ্ছে। যথা সময়ে এ বিষয়ে জানা যাবে।
কেবি





