গাজায় ইসরাইলি হামলায় মানুষের জীবনধারণই প্রায় অসম্ভব। সেখানে চিড়িয়াখানার প্রাণী? বেশ কঠিন অবস্থা। গাজার চিড়িয়াখানার অবস্থা এ কারণেই হয়ে পড়েছিল করুণ। দেখভাল করার কেউই ছিল না।

মাসের পর মাস তাদের খাঁচা পরিস্কার হয়নি। নোংরা, অসুস্থকর পরিবেশে রোগ ছড়িয়েছে, ওষুধ দেয়ার লোক ছিল না। স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘‌ফোর প‌’‌জ ইন্টারন্যাশনাল’‌–এর কর্মীরা শেষ পর্যন্ত যখন চিড়িয়াখানায় গিয়ে পৌঁছন, অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। বনের রাজা সিংহ, কঙ্কালসার চেহারা,

ভালোভাবে দাঁড়াতে পারছে না, দেখতে পাচ্ছে না চোখে, এমনকি হুঙ্কার দেয়ার শক্তিটুকুও নেই তার মধ্যে। রাজকীয় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বসে বসে ধুঁকতে ধুঁকতে ওইভাবেই শুকিয়ে মরে গেছে। দুরন্ত বাঁদরের দল, সহিষ্ণু সজারু, এমনকি শক্তপোক্ত কুমিরেরাও বাঁচতে পারেনি দিনের পর দিন না খেয়ে। করুণ মৃত্যু এসেছে সবার জন্যে। চিড়িয়াখানার খাঁচায় খাঁচায় ছড়িয়ে ছিল মানবিকতার এই মর্মান্তিক নজির।

তবু ধুকপুকিয়ে যাচ্ছিল যে কটি নাছোড় প্রাণ, তাদের উদ্ধার করেছেন ‘‌ফোর প‌স ইন্টারন্যশানাল’–এর স্বেচ্ছাসেবীরা‌। গাজার ওই চিড়িয়াখানার সবথেকে জনপ্রিয় বাঘ ‘‌লাজিজ’‌সহ মোট ১৫টি প্রাণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। হাসপাতালে তাদের জরুরি চিকিৎসা শুরু হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে বেশ কয়েকটি হনুমান, হরিণ, কয়েকটি বিশেষ প্রজাতির সারস, শজারু এবং ‘‌লাজিজ’‌।

বন্ধ করে দেয়া হয়েছে চিড়িয়াখানাটি। ২০০৬ সালে গাজায় বেসরকারি এই চিড়িয়াখানাটি তৈরি করেছিলেন মোহাম্মদ বারগৌথি নামে এক শিল্পপতি। ২০০৮–০৯ সালের যুদ্ধের সময়ই হালত খারাপ হয় এখানকার জীবজন্তুদের। দর্শক সংখ্যা কমতে থাকে। লোকসান হতে থাকায় মালিকও হাল ছেড়ে দেন। ২০১০ সালের পর থেকেই চিকিৎসা, নিয়মিত দেখভাল ছাড়া, নিদারুণ খাদ্যাভাবে দিন কাটিয়েছে পশুপাখিরা।

ফোর প’‌জ এর প্রতিনিধিরা বলছেন, বেঁচে থাকার শেষ আশাটুকুও চলে গিয়েছিল ওদের। তাও তাদের দেখে সবকটা জীবিত প্রাণী নড়েচড়ে বসে। চিড়িয়াখানার খাঁচা থেকে গাড়িতে তোলার জন্য যেই গেট খোলা হয়েছে, পালানোর বিন্দুমাত্র চেষ্টা না করে লাজিজ ঢুকে পড়ে অন্য খাঁচায়। বোঝাই যাচ্ছিল, ও ভাবছে, প্রাণ বাঁচাতে হয়ত এটাই শেষ রাস্তা।

এমবিএইচ