প্রতিরোধ লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে সিরিয়ার পূর্ব ঘৌটা থেকে বিদ্রোহীরা বৃহস্পতিবার বাসে চড়ে সপরিবারে চলে যেতে শুরু করলে জয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ।
দেশটিতে সাত বছর ধরে চা গৃহযুদ্ধের মধ্যে মাসখানেক আগে শুরু হওয়া সবচেয়ে নৃশংস সামরিক অভিযানের পর বিদ্রোহীরা এই প্রথম এক রকম আত্মসমর্পণ করেছেন।
বিদ্রোহী আহরার আল-শামগোষ্ঠী সেনাবাহিনীর শর্ত মেনে হারাসতা শহর সরকারের হাতে ছেড়ে চলে যেতে রাজি হয়েছে। আলেপ্পোয় ২০১৬ সালে শুরু হওয়া লড়াইয়ে এটিই সবচেয়ে বড় বিজয় বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
একই অঞ্চলের আরেকটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করা ফাইলাখ আল রাহমান বিদ্রোহী গোষ্ঠী বলেছে, তারা সরকারের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে। তাদের মধ্যে আলোচনার চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নামতে শুরু করলে ৩০টি বাসে চড়ে বিদ্রোহী যোদ্ধা ও তাদের পরিবারকে হারাসতা ছাড়তে দেখা গেছে। সিরিয়ার সরকারি গণমাধ্যম বলেছে, ওই বাসে ৪১৩ বিদ্রোহীসহ দেড় হাজারের বেশি লোক ছিলেন। তাদের উত্তর-পশ্চিম সিরিয়া নিরাপদে ত্যাগের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে।
দিনশেষে আহরার আল-শাম ইসলামিক গোষ্ঠীর আরও প্রায় ১৫০০ যোদ্ধা এবং ছয় হাজার বেসামরিক নাগরিকের হারাসতা ছেড়ে উত্তরাঞ্চলের বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত ইদলিবপ্রদেশে চলে যাওয়ার কথা রয়েছে।
ঘৌটায় দুপক্ষের লড়াইয়ে ১৫০০ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন এবং সম্প্রতি কয়েক দিনে অন্তত ৫০ হাজার মানুষ পায়ে হেঁটে অঞ্চল ছেড়ে পালিয়েছেন বলে জানিয়েছে একটি পর্যবেক্ষক গোষ্ঠী।
সরকারপন্থী বাহিনী সম্প্রতি পূর্ব ঘৌটার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা পুনর্দখল করে এলাকাটিকে তিনটি অংশে বিচ্ছিন্ন করে ফেলার পর বিদ্রোহীরা এখান থেকে চলে যেতে শুরু করল।বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারের চুক্তিটি হয়েছে সিরিয়ার মিত্র রাশিয়ার উদ্যোগে। বৃহস্পতিবার সকালে বন্দিবিনিময় দিয়ে চুক্তিটির বাস্তবায়ন শুরু হয়।
রাষ্ট্রীয় টিভির খবরে বলা হয়েছে, বিদ্রোহীদের হাতে বন্দি ১৩ জন মুক্তি পেয়েছে। এভাবে দুই পক্ষে বন্দিবিনিময় হয়েছে ১৮ জন।চুক্তির আওতায় নিরাপদে ঘৌটা ছেড়ে যাওয়ার বিনিময়ে হারাসতায় অস্ত্রসমর্পণে রাজি হয়েছে শহরটির নিয়ন্ত্রণে থাকা বিদ্রোহী গোষ্ঠী আহরার আল-শাম।
তা ছাড়া এ চুক্তির ফলে পূর্ব ঘৌটার অন্য অংশের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিদ্রোহীরাও এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার চাপে পড়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় দৌমা এলাকার নিয়ন্ত্রণে থাকা জইশ-ই-ইসলাম গোষ্ঠী এবং দক্ষিণাঞ্চলের আরবিন ও জামালকাজুড়ে নিয়ন্ত্রণে থাকা ফায়লাক আল-রহমান গোষ্ঠীর সঙ্গেও সরকার একই ধরনের চুক্তি করার পথে রয়েছে।





