স্বপ্ন ছিল অনেক, বাস্তব করার ইচ্ছা ও সিল দু'চোখ ভরা স্বপ্নের মতই। কিন্তু হঠাৎ ঘুমিয়ে গেল নিমিষেই সব শেষ।

কারও মুখে বার্তা নেই। শুধু একে-অপরের দিকে ফেল-ফেল করে তাকাচ্ছেন। চেহারায় ফুটে উঠছে সহপাঠী-স্বজন হারানোর আত্মনাত।

নীরব-নিস্তব্ধ পরিবেশ সিলেটের রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সহপাঠীকে হারানোর খবর থেকেই মেঘের ঘনঘটা আকাশে। মেডিকেল কলেজ শিক্ষার্থী-শিক্ষক ও স্টাফদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে যেন দূরের ওই আকাশটা।

বিমান দুর্ঘটনায় সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের ১৩ নেপালি শিক্ষার্থী হতাহতের ঘটনায় শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কলেজের পক্ষ থেকে তিন দিনের শোক কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।

এদিকে ওই ১৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রিন্সি দাম ও সামিরা বায়জানকার নামের দুই শিক্ষার্থী জীবিত আছেন বলে জানা গেছে। সিলেটে অবস্থানরত নেপালি শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে মেডিকেল কলেজের উপপরিচালক ডা. আরমান আহমদ শিপলু এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল মেডিকেল কলেজের উপপরিচালক ডা. আরমান আহমদ শিপলু বলেন, নেপালে বিধ্বস্ত হওয়া ইউএস-বাংলার বিমানে সিলেটের জালালাবাদ রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ১৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে ১১ ছাত্রী, দুই ছাত্র ছিল। তাদের সবাই মারা গেছেন, প্রথমে এমন আশঙ্কা করা হয়। তবে পরে খবর আসে এদের মধ্যে ২ জন বেঁচে আছেন।

মঙ্গলবার সকালে রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজের নেপালি ছাত্রাবাসে গিয়ে দেখা যায়, শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীরা। এ সময় অনেককে অঝোরে কাঁদতে দেখা যায়। তবে শোকাচ্ছন্ন নেপালি শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চাননি।

নেপালি ছাত্রাবাসের এই শোকাবহ পরিবেশ বিরাজ করছে পুরো কলেজ ক্যাম্পাসে। ক্যান্টিনে বসে ল্যাপটপে সহপাঠীর সঙ্গে ক্লাস সিট শেয়ার করছেন তাসলিমা ঝর্ণা। তারা রাগীব-রাবেয়া নার্সিং কলেজের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

দু’জনেরই মন খারাপ। মামুনের খেলার সাথী ছিল ওই ১৩ জনের একজন সঞ্জয়া। খেলার সাথী হারিয়ে সেও শোকাহত। ১৩ জনের কয়েকজনের সঙ্গে প্রায় ক্যান্টিনে দেখা হতো তাসলিমা ঝর্ণার। তারা তাকে খুব ভালোবাসতেন।

রাগীব-রাবেয়া মেডিকেল কলেজে পড়ালেখা শেষ করে বর্তমানে হাসপাতালে মেডিকেল অফিসার ডা. নাফিসা। তিনি বলেন, ‘শেষ বর্ষে ওদের সঙ্গে পরিচয়। এরপর থেকে ওদের আচরণে কখনও মনে হয়নি ওরা ভিনদেশি।

পরিবেশ ভারী কলেজ ক্যাম্পাসের পাশের দোকানগুলোয়ও। সারিফ অ্যান্ড রাফি স্টোরের স্বত্বাধিকারী মো. রবুল হোসেন।

তিনি বলেন, রোববার ১৩ জনের দু’জন সঞ্জয়া মেহেরজান পূর্ণিমা লুহানির সঙ্গে কথা হয় আমার। বাড়ি যাচ্ছি জানিয়ে তারা বলেছিল ফিরে আসছি, দোয়া করবেন। তাদের আর ফিরে আসা হবে না!

কলেজ হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. ফজলুর রহমানও শোকে স্তব্ধ। তিনি বলেন, রোববার রাতে তারা এসে জানায় বাড়ি যাবে। রাত ১২টায় অ্যাম্বুলেন্স দিয়ে তাদের বাস কাউন্টারে পৌঁছে দেয়া হয়েছিল।’

তিনি আরো বলেন, সকালে কলেজের একাডেমিক ভবনে কাউন্সিলের মিটিং হয়েছে। সব বিভাগীয় প্রধান, গভর্নিং বড়ির চেয়ারম্যানসহ সবাই উপস্থিত ছিলেন। মিটিংয়ে তিন দিনের শোক ঘোষণা করা হয়। ক্লাস-পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। মঙ্গলবার কালো ব্যাজ ধারণ ও পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে।

ফয়জুর রহমান বলেন, মিসিং হওয়া অঞ্জলি শ্রেষ্ঠর বোন অবিকা সুস্থ হলে তাকে কলেজ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনায় দেশে পাঠানো হবে। ইতিমধ্যে কলেজ কর্তৃপক্ষ নেপালে থাকা প্রতিনিধির মাধ্যমে সান্ত্বনাপত্র পাঠানো হয়েছে।

এএস