আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে রোহিঙ্গা সংকট ইস্যুতে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা নিতে হবে। তা নাহলে বিশ্ব সৃষ্টি করবে ‘আরও একটি ফিলিস্তিন’।

বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরিন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) বৈঠক করেছেন মধ্যপ্রার্চের একটি প্রতিনিধি দল। ওই বৈঠকেই এমন কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন তারা।

ওই প্রতিনিধি দলে ছিলেন- বড় একটি দাতব্য সংস্থার প্রতিনিধিরা ও আলজেরিয়ার রাজনীতিকরা। অনলাইন মিডলইস্ট মনিটরে এসব কথা লিখেছেন ইভোনি রিডলে।

তিনি আরও লিখেছেন, ইন্টারন্যাশনাল রিলিফ অর্গানাইজেশন (আইএরও)-এর চেয়ারম্যান ফিলিস্তিনি মামদুহ কামাল আলী বাদাবী ও আলজেরিয়ার এমপি ইউসেফ আদিসা রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের উদ্বেগের বিষয় তুলে ধরেন। এ সময় তাদের কথা মনোযোগের সঙ্গে শোনেন স্পিকার শিরিন শামরিন চৌধুরী।

উল্লেখ্য, ইউসেফ আদিসা ওআইসির মেম্বার স্টেটসের পার্লামেন্টারি ইউনিয়নের একজন সদস্যও। মিয়ানমারে নৃশংসতার শিকার হয়ে যখন হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আসা শুরু করে তখন কক্সবাজারে প্রথম আরব দাতব্য সংস্থা হিসেবে তাদের সহায়তা করতে এগিয়ে আসে আইআরও। কামাল আলী বাদাবি একজন ফিলিস্তিনি। তারা বর্তমানে জার্মানিতে নাগরিকত্ব পেয়েছেন ।

তিনি বাংলাদেশের স্পিকারকে বলেন, আমি যখন রোহিঙ্গা ইস্যুর দিকে তাকাই তখনই আমার মনে পড়ে যায় ফিলিস্তিনের কথা। ফিলিস্তিনের পরিস্থিতির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতির অনেক মিল রয়েছে। তবে চলমান নৃশংসতা থেকে যারা পালিয়ে কক্সবাজারে নিরাপদ শিবিরগুলোতে রয়েছেন অন্তত তারা একটু ভাল আছেন। তারা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মতো নন। এখনও ফিলিস্তিনি শরণার্থীরা নৃশংসতার শিকার। তাদের ওপর এখনও নিষ্পেষণ চালানো হয়।

তিনি বলেন, যদি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় রোহিঙ্গা ইস্যুতে দ্রুততার সঙ্গে ব্যবস্থা না নেয় তাহলে পরিস্থিতি অনিয়ন্ত্রিত হয়ে পড়তে পারে। ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে যা ঘটেছে এখানেও তাই ঘটতে পারে।

আলজেরিয়ার এমপি তার যুক্তি তুলে ধরে বলেন, আমার ভয় হয়। ভয় হয় যে, যদি রোহিঙ্গাদের এই সংকট দ্রুত সমাধান করা না হয় তাহলে এই সংকট ফিলিস্তিন সংকটের দিকে মোড় নেবে।

ইউসেফ আদিসা বলেন, বর্তমানে আমরা দেখতে পাই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন শরণার্থী শিবির’সহ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখতে পাই ফিলিস্তিনিদের। কারণ, যখন ফিলিস্তিনি ভূখন্ডে ১৯৪৮ সালে ইসলাইল সৃষ্টি করা হয়েছিল তখন যে বিপর্যয় ঘটেছিল সে বিষয়ে বিশ্ব কোনো পদক্ষেপই নেয় নি। একই ঘটনা রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রেও ঘটতে দেয়া যাবে না।

উল্লেখ্য, প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশ সফরে এসেছেন। তাদের সঙ্গে সাক্ষাতে স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী মত দেন যে, পরিস্থিতি দ্রুততার সঙ্গে সমাধান করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আইআরও যে আইনী পদক্ষেপ নিয়েছে তার প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি।

এমবি