শ্বশুরবাড়িতে এসে দ্বিতীয় দিন সন্ধ্যা বেলা বাড়ির সবাইকে চা খেতে দেয় চাঁদনি। ওই চায়ের সঙ্গে মদ মিশিয়ে শ্বশুরবাড়ির সবাইকে খেতে দেয় সে। এর পর রাতে খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়ে সবাই। পরদিন ঘুম ভাঙ্গতেই বাড়ির লোকেরা দেখেন সোনার গহনাগাঁটি, টাকা-পয়সা নিয়ে নববধু চাঁদনিও উধাও। ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের সিরসা ইন্দ্রপুরী এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত ২০ মে সিরসার ইন্দ্রপুরীর বাসিন্দা তিলকরাজের সঙ্গে বিয়ে হয় পানিপথ এলাকার বাসিন্দা চাঁদনির। অবশ্য এ বিয়েতে পণ হিসেবে তিলকরাজ নগদ এক লাখ রুপি নেয় চাঁদনির পরিবারের কাছ থেকে। কিন্তু বিয়ের এক রাত যেতে না যেতেই পণের টাকাসহ মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে শ্বশুরবাড়ি থেকে পালিয়ে যায় চাঁদনি।

পুলিশ হিন্দু শাস্ত্রের প্রথা মেনে তিলকরাজ ও চাঁদনির বিয়ে হয়। বিয়ের পর নববধু চাঁদনিকে নিজের বাড়িতে নিয়ে আসেন তিলকরাজ। একদিন স্বামীর ঘরও করে চাঁদনি। কিন্তু পরদিনই স্বামীর বাড়ি থেকে সোনা-দানা, গহনাগাঁটি, টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায় চাঁদনি।

তিলকরাজের পরিবারের সদস্যরা জানায়, চুরির ঘটনার পর পানিপথে চাঁদনির বাড়িতে যাওয়া হয়। সেখানে গিয়েই ভুল ভাঙ্গে সবার। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখতে পান চাঁদনির পরিবার যে বাড়িতে ভাড়া নিয়ে ছিলেন সেই বাড়ি ফাঁকা। সেখান থেকে তারা অন্য কোথাও চলে গেছে। তারা কোথায় গেছে তা কেউই জানে না। প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায় বিয়ের নামে ফাঁদ পাতাই চাঁদনির ও তার পরিবারের মূল ব্যাবসা। নাম পাল্টিয়ে বহুবার বিয়ে করেছে চাঁদনি। এরপর শ্বশুরবাড়িতে কয়েকদিন থেকে সেখান থেকে যাবতীয় জিনিসপত্র হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় সে। এটাই তাদের মূল ব্যাবসা।

পুলিশ জানিয়েছে, চুরির ঘটনায় চাঁদনি ও তার বাবা পাপ্পু খানসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে থানায়। অভিযুক্তদের খোঁজে এরই মধ্যে তল্লাশি অভিযানও শুরু করেছে পুলিশ।

জেড