সারদা কেলেঙ্কারির তদন্তে পরিবহনমন্ত্রী মদন মিত্রকে গ্রেফতার করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিবিআই। তার বিরুদ্ধে সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে অনৈতিক আর্থিক সুবিধা নেওয়া ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে। খবর জি নিউজ ও এনডিটিভির।

কলকাতার সিজিওকমপ্লেক্সে শুক্রবার দু'দফায় প্রায় সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা জেরা করা হয় মদন মিত্রকে। সিবিআই দফতরে পৌঁছতেই তার হাতে একটি প্রশ্নের তালিকা দেওয়া হয়।

মদন মিত্রের দেওয়া উত্তরের ভিত্তিতে তাকে জেরা করেন, সিবিআই-এর জয়েন্ট ডিরেক্টর; পুলিশের একএসপি,পুলিশের এক ডিআইজিএবং দিল্লি থেকে আসা এক অফিসার। দ্বিতীয় দফায় পরিবহন মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন তদন্তকারী অফিসার।

সিবিআইসূত্রে জানা গেছে, মদন মিত্রের সব উত্তরে সন্তুষ্ট হতে পারেননি তদন্তকারীরা। মদন মিত্র ছাড়াও গ্রেফতার করা হয়েছে সারদার আইনজীবী নরেশ ভালোটিয়াকেও।

মদন মিত্রের গ্রেফতারে চরম সংকটে পড়বে মমতা বন্দোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস। মদন মিত্র হলেন মমতার অনেক বিশ্বস্ত লোক। তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য।

মমতার মন্ত্রীসভার পরিবহন মন্ত্রী এই মদন মিত্রের বিরুদ্ধে সারদা গ্রুপের কাছ থেকে প্রাইভেট কার, গাড়ির জ্বালানি এবং ড্রাইভার পেয়েছেন বলে এক ভিডিওতে দেখা গেছে। সারদা গ্রুপের চেয়ারম্যান সুদীপ্ত সেনের সঙ্গে এক বৈঠকে এসব সুবিধা নেন মদন। ওই বৈঠকের ভিডিওতে তা দেখা গেছে। এ ছাড়াও একটি মন্দিরের জন্য সুদীপ্ত সেনের কাছ থেকে অনুদানও নিয়েছেন মদন মিত্র।

এদিকে মদন মিত্রের গ্রেফতারে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃবৃন্দ। সম্প্রতি ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) কেন্দ্রীয় সভাপতি অমিত শাহের কলকাতার র‌্যালির দিকে ইঙ্গিত করছেন তারা। তারা বলছেন, অমিত শাহের সাম্প্রতিক এ কলকাতার র‌্যালির পরই বুঝা যাচ্ছিল এ ধরনের 'প্রতিহিংসাপরায়ণ' কিছু ঘটতে যাচ্ছে।

এদিকে, অভিযোগের ব্যাপারে বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ বলেন, "কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা তাদের কাজ করছে।"

এমএ