ভারতের আগ্রায় সঙ্ঘ পরিবারের 'ঘর ওয়াপসি’র নামে ধর্মান্তরকরণের যে কর্মসূচি নেয়া হয়েছিলো তা মূলত একটি প্রতারণা। প্রতারণার ফাদেঁ ফেলে নাটক করে দু'শ জন মুসলমানকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
যেসব মুসলিমকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছিল, তাদের অনেকেই জুমাবারে নামাজ পড়েছেন। সম্প্রতি দু’শ’ জন মুসলিমকে ধর্মান্তরিত করা হয়েছে বলে গণমাধ্যমে প্রচার হয় এবং বিষয়টি নিয়ে পার্লামেন্টেও তোলপাড় হয়।
বেদনগর মহল্লার ধর্মান্তরিত একজস হলেন মনিরা বেগম। তিনি দাবি করেন, "ধর্মান্তরের ঘটনার দিন কুড়ি আগে তাদের মহল্লায় নন্দ কিশোর নামে এক ব্যক্তি এসেছিলেন। তিনি বলেন, মোদি সরকার তাদের বিপিএল কার্ড দেবেন। কয়েকদিন পরে তিনি একটি তালিকা নিয়ে ফের আসেন। সেই তালিকায় মহল্লার সবার নাম ছিল।
নন্দ কিশোর বলেন, স্নান করে মাথায় টুপি দিয়ে ও মহিলাদের বোরকা পরে ওই অনুষ্ঠানে হাজির হতে হবে। অনুষ্ঠানের দিন সেখানে উপস্থিত হওয়া পুরুষদের কপালে টিকা পরিয়ে দিয়ে বলা হয়, তোমরা হিন্দু হয়ে গেলে। তখনই বুঝতে পারলাম কী ঘটে গেল। অনেকে তখনো মনে করছিলেন, বিপিএল কার্ড পাওয়ার জন্যই বোধহয় টিকা পরানো হল।"
আগ্রার ওই বাঙালি মহল্লায় বজরং দলের আহ্বায়ক আজ্জু চৌহান অবশ্য দাবি করেছেন, যা হয়েছে তা স্ব-ইচ্ছাতেই হয়েছে।
এমআইএম দলের নেতা মুহম্মদ আলী এই বিষয়ে জেলা কালেক্টরেটের সামনে বিক্ষোভ দেখিয়েছেন। তার দাবি আরএসএস, বজরং দল, ধর্ম জাগরণ মঞ্চকে নিষিদ্ধ করা হোক।
ধর্মান্তরিতদের অনেকেই আগের মত মসজিদে অথবা বাড়িতে নামাজ পড়ায় বা আল্লাহকেই একমাত্র উপাস্য মনে করায় 'ঘর ওয়াপসি’র নামে ধর্মান্তরকরণ কার্যত ফ্লপ হয়ে গেছে।রেডিও তেহরান
ইআর





