ছোট্ট একটা টেলিভিশন স্টুডিও। তার ভিতরে ৪ জনের একটি দল। রোহিঙ্গাদের নিয়ে নিউজ বুলেটিন তৈরিতে ব্যস্ত তারা। রোহিঙ্গাদের ধর্ষণে গল্প, হত্যা, জাতিগত নিধন, আন্তর্জাতিক হাতছানির অভাব এই সব নিয়েই মূলত তারা সংবাদ প্রকাশ করে।

এটা কোন যেনতেন টেলিভিশন। এবং এটাই পৃথিবীর একমাত্র রোহিঙ্গাদের নিয়ে রোহিঙ্গাদের দ্বারা এবং রোহিঙ্গাদের জন্য অনলাইন টেলিভিশন। বিশ্বের যেকোন জায়গায় থেকে রোহিঙ্গাদের তথ্য নিয়ে অথবা শেয়ারের মাধ্যমে এখানে সংবাদ সম্প্রচার করা হয়।

টেলিভিশটির নাম রোহিঙ্গা ভিশন টিভি (Rohingya Vision TV) সংক্ষেপে যাকে বলা হয় RVision TV। যেটা পাকিস্তান, মালয়েশিয়া এবং সৌদি আরব থেকে সম্প্রচার করা হয়।

সংবাদ পাঠকের চেয়ারে বসে আছে রোহিঙ্গা সাংবাদিক ২৪ বছরের আরিফা সুলতানা। জন্মের ১১ মাস পরে ১৯৯৪ সালে তাদের পরিবার মায়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে।

১৯৯৪ সাল থেকে এই পালিয়ে আসা শুরু হয় নি। মায়ানমারের এই জাতিগত নিধন শুরু হয় ১৯৮২ সালের সেই দিন থেকে যেদিন তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেওয়া হয়।

কিন্তু আজিজ ইব্রাহিম তার 'The Rohingyas: Inside Myanmar's Hidden Genocide' বইয়ে উল্লেখ করেন যে, মায়ানমার মূলত রোহিঙ্গাদের ওপর সেদিন থেকে জাতিগত নিধন শুরু করে ১৯৪৭ সালের যেদিন তারা সংবিধান রচনা করে। তারপর থেকে যুগ যুগ ধরে তারা রাষ্ট্রহীন, পরিচয়হীন, বর্ণ ও গন্ধহীন একটি প্রাণী।

একজন সংবাদ পাঠক হিসেবে আরিফা সুলতানা সংবাদ মাধ্যম আল-জাজিরাকে জানায়, ' সবাই জানে আমরা রোহিঙ্গা কিন্তু কাগজে কলমে গেলে আমরা তা প্রমাণ করতে পারি না। এটা এখন আমাদের জন্য এই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। '

৩ বছর আগে অবৈধভাবে এই মালয়েশিয়ায় পাড়ি দেয় আরিফা যখন ২০১৫ সালে মায়নমার-বাংলাদেশ বর্ডার সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আরিফা এখন তার পড়াশুনা চালিয়ে যেতে চায়, আবার কলেজে ভর্তি হতে চায়। কিন্তু মালয়েশিয়াতে বৈধ কাগজপত্র না থাকলে ভর্তির অনুমতি দেয়া হয় না।

আরিফা বলেন,' আমি নিশ্চিত আমার মতো রোহিঙ্গাদের ভেতর অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী আছে। কিন্তু যোগ্যতা থাকার পরেও আমাদের জন্য সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে। "

সুলতানা রোহিঙ্গা ভিশন টিভিতে প্রথমে একজন ভলান্টিয়ার হিসেবে কাজ করে। তারপর একজন সংবাদ পাঠক হিসেবে নিজেকে তৈরি করে। এটিতে মোট তিনটি ভাষায় সংবাদ প্রকাশ করা হয়। রোহিঙ্গা ভাষা, আরবি ও ইংরেজী।

সুলতানা অনেকগুলো সুযোগ পায় সংবাদ সংগ্রহের জন্য মালয়েশিয়ার বাহিরে যাওয়ার। কিন্তু তার ভয় তাকে যদি মালয়েশিয়ায় অবৈধতার কারণে ফিরতে না দেয়া হয়।

'যখন আমি কাজ শুরু করি তখন খুব মনোযোগ সহকারে রোঙ্গিাদের গল্পগুলো শুনতাম আর এখন এটি আমার দৈনন্দিন একটি কাজ। আমার সৌভাগ্য যে আমি খুব কাছের কয়েকজন সহকারী পেয়েছি। যারা সবসময় আমাকে সহায়তা করে। '

মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গাদের অন্যতম মূখপাত্র জিয়াউর রহমান(২৪) সরাসরি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ করে। যেখানে আলোচনায় তিনি রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের বর্ণনা তুলে ধরেন।

রহমান জানায়,' মালয়েশিয়ায় আমাদের কোন নিরাপত্তা নেই, এখানে কোন এনজিও 'NGO' র পক্ষ থেকে আমরা সহায়তা পাই না।

মালয়েশিয়ায় রোহিঙ্গাদের বৈধতা কোন সুযোগ নেই, নেই কোন সরকারি স্কুল বা সরকারি চাকুরির। কিন্তু মালয়েশিয়ায় প্যারালাল স্কুল করার সুযোগ আছে। যেখানে ঢালাওভাবে রোহিঙ্গারা শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ পায়।

জেড