কথায় বলে আক্রমণই রক্ষণের সেরা রাস্তা।ললিতগেটে আত্মপক্ষ সমর্থনে সেই পথেই হাঁটলেন সুষমা স্বরাজ।বফর্স থেকে ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আনলেন তিনি।অভিযোগ করলেন, পলাতকদের সাহায্য করা গান্ধী পরিবারের পরম্পরা।রাহুল গান্ধীকে তীব্র কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি সুষমা।কংগ্রেস সহসভাপতির ছুটি কাটানো নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করে বিদেশমন্ত্রী বলেন, দু'মাস ছুটি নিয়ে পারিবারিক কলঙ্কের ইতিহাস পড়ুন রাহুল।নিজের মাকে তিনি জিজ্ঞাসা করুন, কোয়াত্রোচির কাছ থেকে তাঁরা কত টাকা নিয়েছেন।
দুটোয় লোকসভার অধিবেশন ফের শুরু হতেই দুই বিজেপি সাংসদের ক্ষমা চাওয়ার দাবিতে সরব হয় কংগ্রেস।সংসদে কোনও ব্যক্তিগত আক্রমণ করা উচিত নয় বলে প্রতিক্রিয়া জানায় বিজেপি।বুধবার ললিতগেট নিয়ে কংগ্রেসের আনা মুলতুবি প্রস্তাবে সায় দেন লোকসভার স্পিকার।আলোচনার শুরুতেই সুষমা স্বরাজের ইস্তফা দাবি করেন কংগ্রেস সাংসদ মল্লিকার্জ্জুন খাড়্গে।পরে, আত্মপক্ষ সমর্থনে বলতে ওঠেন সুষমা।গত কয়েকদিন ধরেই তাঁকে লাগাতার আক্রমণ করছিলেন রাহুল গান্ধী।এ দিন লোকসভায় সেই রাহুলকেই টার্গেট করেন তিনি।রাজীব গান্ধী অপরাধীদের প্রশ্রয় দিয়েছেন বলে সোনিয়ার সামনেই শুরু করেন সুষমা।
হাতিয়ার বফর্স ও ভোপাল গ্যাস দুর্ঘটনা
মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা কংগ্রেসের প্রাক্তন সহ-সভাপতি অর্জুন সিংয়ের বই হাতে নিয়ে কংগ্রেসকে আক্রমণ করেন বিদেশমন্ত্রী।এ সবের পরই রাহুলের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার দিকে আঙুল তুলে গান্ধী পরিবারের দিকে তীব্র কটাক্ষ ছুঁড়ে দেন সুষমা।ললিত মোদীর পাসপোর্ট মামলায় মেয়ে বাঁশুরীর ওকালতির কথা স্বীকার করে নেন সুষমা।তবে, একইসঙ্গে স্বার্থের সংঘাত প্রসঙ্গে কাঠগড়ায় তোলেন চিদম্বরমকে।টেনে আনেন সারদা প্রসঙ্গ।ললিত মোদীকে দেশে ফেরাতে না পারার জন্য কংগ্রেসই দায়ী বলেও এ দিন অভিযোগ করেন বিদেশমন্ত্রী।
বাদল অধিবেশনের একেবারে শেষ পর্যায়ে সুর নরম সরকার-বিরোধী দুপক্ষেরই।আর তার জেরেই টানা ১৬ দিন পণ্ড থাকার পর অবশেষে লোকসভায় বিরোধীদের হই হট্টগোল, বিক্ষোভ।বাদল অধিবেশনের শুরু থেকে এটাই ছিল সংসদের চেনা ছবি।ললিত কাণ্ডে অল আউট আক্রমণে কংগ্রেস।তাদের দাবি, প্রথমে ইস্তফা, পরে আলোচনা।অনড় ছিল বিজেপিও।এই ইস্যুতে বিরোধীদের আনা মুলতুবি প্রস্তাব তাই খারিজ হয়ে গেছে বার বার।দিনের পর দিন সভার কাজ পণ্ড।সংসদ অচল রাখার কংগ্রেসের এই কৌশলে আর সায় দিচ্ছিল না বহু দলই।অবশেষে অধিবেশনের প্রায় শেষ লগ্নে সুর নরম করল কংগ্রেস-বিজেপি দুপক্ষই। কিন্তু এতদিন অধিবেশন পণ্ড হওয়ার পর শেষ বেলায় কেন এই উদ্যোগ? এনিয়ে কংগ্রেসকে ঠুকতে ছাড়েননি সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী।
লাগাতার সভা পণ্ড হওয়ায় আটকে গিয়েছে বহু বিল।চলতি অধিবেশনে জিএসটি বিল পাশ করানো মোদী সরকারের কাছে চ্যালেঞ্জ।অন্যদিকে তৃণমূল, জেডিইউ, আপের মত অবিজেপি দলগুলিকে নিয়ে প্রেসার গ্রুপ তৈরির উদ্যোগ গতি পেয়েছে রাজধানীতে।তাই সুষ্ঠুভাবে সংসদে চালানোর তাগিদ ছিল কেন্দ্রেরও। সূত্র:জিনিউজ
জেডআই





