ইংল্যান্ডের লুনা লিনডলেই নামের মেয়েটির বয়স তখন ১৬। আর লরি কেসটেভেন নামের ছেলেটির বয়স ১৮; যে প্রস্তুত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া-লেখা করার জন্য।
পরিবারের আপত্তি সত্ত্বেও তারা একে অপরকে বিয়ে করার জন্য দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।
দুখের বিষয় হলো, স্কুলপড়ুয়া লুনা প্রাণঘাতী 'সিসটিক ফিবরোসিস' রোগে আক্রান্ত। তার প্রায়ই শ্বাস নিতে কষ্ট হয়।
এই রোগে একজন ব্যক্তির শরীরে জীনগত-বিশৃঙ্খলা (জিনেটিক ডিসওয়ার্ডার) দেখা দেয়। আক্রান্ত কিছু কিছু রোগী ৩০ বছরও বাঁচতে পারেন না।
এত বিপদের পরেও দমে যায়নি লুনা-লরি জুটি। বিয়ে করার অনুমতি চেয়ে লুনা তার বাবা-মাকে অনুনয়বিনয় করে বলতে থাকে "আমরা প্রেমে পড়েছি, আমি জানি না আমি কতদিন বাঁচব। আর আমি কখনো ভাবিনি যে, আমি কখনো বিয়ে করার সুযোগ পাব।"
এদিকে বসে ছিল না লরি। সে নিজের পরিবারকে এই বলে বুঝাতে চেষ্টা করে যে, তারা উভয়ে খুব ছোট নয়। আর লুনা'র মায়ের সহযোগীতায় সে লুনার যত্ন নিতে পারবে। পাশাপাশি পড়ালেখাটাও চালিয়ে যেতে পারবে।
যাই হোক, লুনা-লরি জুটির সুখের কথা চিন্তা করে বিয়ের ব্যাপারে আপত্তি তুলে নেয় উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজন।
এরপর ২০১৩ সালের ১৭ মে এলো সেই শুভক্ষণ। ইংল্যান্ডের হেডিংলেই-এর দক্ষিণ প্যারেড ব্যাপিস্ট চার্চে বিবাহ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ১২৫ জন অতিথি। চার্চের সিড়ি দিয়ে নিচে নেমে এল লুনা। এসময় ফুলের তোড়া দিয়ে সে নিজের সুখের অশ্রু আড়াল করার চেষ্টা করল।
অনুষ্ঠানে গান গাইল একজন বন্ধু। আর গানের তালে তালে নেচেছে লুনা-লরি দম্পতি।
বিয়ের পর নতুন যুগল এক সপ্তাহের জন্য হানিমুন করতে গেল গ্রিসের রোডেস আইল্যান্ডে।
এই প্রথমবারের মতো লুনা তার বাবা-মাকে ছাড়া বিমানে উঠল। আর তাই বেশ যত্নসহকারে ভ্রমণের প্রস্তুতি নিতে হয়েছে তাকে। বিমানে ভ্রমণের সময় যাতে শ্বাস নিতে কষ্ট না হয়, সেই ব্যবস্থাও নেয় সে।
বর্তমানে লুনার বয় ১৭ আর লরির ১৯। তরুণ দম্পতিটি এবছর বিবাহবার্ষিকী পালনের পরিকল্পনা করছে। আর 'সিসটিক ফিবরোসিস' রোগের বিষয়ে সচেতনতা তৈরীর জন্য নিজেদের ভালোবাসার গল্পটি প্রথমবারের মতো বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সূত্র: ডেইলি মেইল
[b]ঢাকা, ২৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি.কম)// টিআই[/b]