সাত বছরের বালিকাকে ধর্ষণের অভিযোগে গ্রামবাসীদের গণপিটুনিতে ভারতের এক তান্ত্রিক মারা গেছে। এছাড়া আরো দুই জনের অবস্থা আশঙ্কা জনক। ভারতের পূর্ব মেদিনীপুরের কাজিবাজারে ঘটেছে এমন ঘটনা।

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, সাত বছরের বালিকাকে ধর্ষণ করে তার দেহ ঝুলিয়ে দেয় তারা। গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় ওই বালিকাকে দেখে তান্ত্রিক ও তার দুই সঙ্গীকে ঘিরে ফেলেন গ্রামবাসীরা। এরপর শুরু হয় গণপ্রহার।  হাসপাতালে নিয়ে গেলে তান্ত্রিককে মৃত ঘোষণা করা হয়। বাকি দু'জনের চিকিৎসা চলছে।

শুক্রবার রাত থেকেই নিখোঁজ ছিল ওই বালিকা। এরপরেই তার খোঁজ শুরু করেন গ্রামবাসী সহ ওই বালিকার বাড়ির লোকজন।  শনিবার সকালে গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তার দেহ। এখবর ছড়িয়ে পড়ে গোটা গ্রামে। গ্রামবাসীদের সন্দেহ, গ্রামেরই তান্ত্রিক রতন দাস এবং তাঁর দুই সঙ্গী মিলে ওই বালিকাকে গণধর্ষণ করে খুন করে। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, শুক্রবার সকালে ওই তান্ত্রিকের সঙ্গেই দেখা গিয়েছিল বালিকাকে।

পূর্ব মেদিনীপুরের এসআই সুকেশ কুমার সাংবাদিকদের জানান, 'পরিবারের তরফ থেকে মেয়ের বাবা ওই তিন ব্যক্তির বিরুদ্ধে স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের মধ্যে একজনের হাসপাতালে মৃত্যু হয়েছে'।

তিনি আরও বলেন, 'আমরা ময়নাতদন্তের রিপোর্টের অপেক্ষা করছি। প্রাথমিক তদন্তে পুলিস জানতে পেরেছে বালিকার পরিবারের সঙ্গে আগে থেকেই বিবাদ ছিল তান্ত্রিক রতন দাসের।' সেই রোষেই রতন দাস কি এই কাজ করেছে কিনা, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

কাজিবাজারের ঘটনায় ছায়া রয়েছে উত্তরপ্রদেশের বদায়ু কাণ্ডের। সেখানে দুই বোনকে ধর্ষণ করে গাছে ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। একের পর এক এই ধরনের ঘটনায় বার বার প্রশ্নের মুখে নারীর নিরাপত্তার বিষয়টি।

রাষ্ট্রসঙ্ঘের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ভারত ক্রমশ আমেরিকা ও ব্রিটেনের দিকে এগোচ্ছে, যেখানে মেয়েদের ওপর এই ধরনের বর্বরোচিত ঘটনার উদাহরণ সব থেকে বেশি।

জেডআই