সরকারের পাশাপাশি দলেও নিজের কর্তৃত্বই কায়েম রাখলেন নরেন্দ্র মোদি। তার ইচ্ছেতেই বিজেপির নতুন সভাপতি হিসেবে নাম ঘোষণা করা হল অমিত শাহের।

বুধবার বিজেপির সদর দপ্তরের দলের সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে গুজরাটের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর নাম ঘোষণা করেন সদ্য প্রাক্তন সভাপতি রাজনাথ সিং। লখনউয়ের সাংসদ রাজনাথ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভায় যোগ দেওয়ার পর থেকেই নয়া বিজেপি সভাপতির খোঁজ শুরু হয়।

প্রথম থেকেই অমিত শাহকে দলের সর্বভারতীয় সভাপতি করার জন্য সঙ্ঘ নেতৃত্বকে চাপ দিতে থাকেন নরেন্দ্র মোদি। লোকসভা ভোটে অমিত শাহর অভূতপূর্ব সাফল্য তাঁকে এই পদে আসীন হতে বিশেষ সাহায্য করেছে বলে মত বিজেপি নেতাদের।

লোকসভা নির্বাচনের আগে উত্তরপ্রদেশের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল মোদি ঘনিষ্ঠ অমিত শাহকে। নরমে গরমে ভোট করিয়ে রাজ্যের ৮০টি আসনের মধ্যে ৭২টি আসনে পদ্মফুল ফোটাতে সমর্থ হন তিনি।

প্রথম দিকে দলের সভাপতি হওয়ার দৌড়ে হিমাচল প্রদেশের রাজ্য বিজেপির সভাপতি জে পি নাড্ডা, অন্ধ্রপ্রদেশের রাজ্য বিজেপির সভাপতি পি মুরলীধর রাও ও রাজস্থানের ওম মাথুর থাকলেও, মূলত মোদী বেঁকে বসায় বাধ্য হয়েই অমিত শাহকে দায়িত্ব দিল সঙ্ঘ।

তিন রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখেই আক্রমণাত্মক নেতাকে দলের মাথায় বসান হল বলে মনে করা হচ্ছে। তবে যথেষ্ট সতর্ক রয়েছে সঙ্ঘও। দিন দিন বিজেপিতে মোদির ক্ষমতা বাড়তে থাকায়, কিছুটা চাপেও রয়েছেন সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভগবত। একদিকে তিনি যেমন অমিত শাহকে বিজেপি সভাপতি করার ব্যাপারে সম্মতি দিয়েছেন, অন্যদিকে দুই আরএসএস শীর্ষ নেতা রাম মাধব ও শিব প্রকাশকে বিজেপিতে পাঠিয়ে সঙ্ঘের প্রভাব অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টাও করেছেন।

মোদি ঘনিষ্ঠ অমিত শাহ সঙ্ঘের সমন্বয় আদৌ করে চলবেন নাকি, তার গুরুর পথেই চালিত হবেন তা সময় বলবে।

ঢাকা, ৯ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) // কেএইচ