সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে নতুন করে পৃথক দুই বিমান হামলায় বিধ্বস্ত হয়েছে দুইটি হাসপাতাল। এতে অন্তত ১৭ জনের প্রাণহানি হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এ খবর জানিয়েছে তারা। বৃহস্পতিবার রাতে জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সিরিয়ার মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় স্বাভাবিকতা আনতে চলমান সংঘর্ষে বিরতি নিশ্চিত করার ব্যাপারে পরাশক্তিগুলোর সমঝোতার পরও এমন ঘটনা ঘটলো।
বিবিসির খবরে বলা হয়, আজাজের তুরস্ক সীমান্তের কাছের এক হাসপাতাল ভবনে বিমান হামলায় অন্তত ১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এদিকে মারাত আল-নুমানে মেডিসিন সানস ফ্রন্টিয়ার নামের একটি সংগঠনের দাতব্য হাসপাতালে বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ৭জন। সেখানে অন্তত আট জন নিখোঁজ রয়েছেন। গত বছরের সেপ্টেম্বর থেকেই সিরিয়ায় কাজ করে আসছে এই সংগঠনটি। দাতব্য এই হাসপাতালে রয়েছে রোগীদের জন্য ৩০ টি শয্যা এবং চিকিৎসকসহ ৫৪ জন কর্মী।
কারা এই হামলা চালিয়েছে সে বিষয়ে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী আহমেত দাভুতোগলু দাবি করেছেন, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতেই ধসে পড়েছে আজাজের হাসপাতাল ভবন।

মেডিসিন সানস ফ্রন্টিয়ার জানায়, সোমবার সকালে বিদ্রোহী অধ্যুষিত নগর মারাত আল-নুমানের হাসপাতালে কয়েক মিনিটের চারটি রকেট হামলা চালানো হয়। মেডিসিন সানস ফ্রন্টিয়ারের প্রধান মাসিমিলানো রেবাউদেনগো দাবি করেন, ‘সচেতনভাবেই স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা খাতকে ক্ষতিগ্রস্থ করার উদ্দেশ্যে এই হামলা চালানো হয়েছে। আমরা সর্বশক্তি দিয়ে এই হামলার প্রতিবাদ জানাতে চাই।’
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংগঠন সিরিয়ান অবজারভেটরি অব হিউম্যান রাইটস জানায়, নিহতদের মধ্যে একজন শিশুও রয়েছে। তারা আরও জানায়, শুধুমাত্র এ বছরের শুরু থেকেই সিরিয়ার অন্তত ১৪ টি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ভবনে হামলা চালানো হয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত সেপ্টেম্বর থেকেই সিরিয়ান প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের সমর্থনে ও ‘জঙ্গি’দের বিরুদ্ধে সিরিয়ায় বিমান হামলা চালিয়ে আসছে রাশিয়া। জাতিসংঘের হিসেবে সিরিয়ায় গত পাঁচ বছরের গৃহযুদ্ধে নিহত হয়েছেন অন্তত আড়াই লক্ষ মানুষ। এ ছাড়াও ঘরহারা হয়েছেন এক কোটিরও বেশি নাগরিক। সূত্র: বিবিসি

এআই