পাকিস্তানী সেনাদের কথিত হামলায় ভারতের সীমান্তরক্ষী বিএসএফ-এর দুই জওয়ান নিহত হওয়ার ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন নিহতদের পরিবারের সদস্যরা।
আজ (মঙ্গলবার) ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত বিএসএফ জওয়ান প্রেম সাগরের মেয়ে তার বাবার মাথার বদলে পাকিস্তানী ৫০ সেনার মাথা দাবি করেছেন।
ভারতের পক্ষ থেকে আনিত অভিযোগে বলা হয়, গতকাল (সোমবার) ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রন রেখা অতিক্রম করে পাকিস্তানী সেনারা ভারতীয় ভূখন্ডে ঢুকে পড়ে এবং দুই বিএসএফ জওয়ানকে হত্যা করে। তারা বিএসএফ জওয়ানদের শুধু হত্যাই করেনি, তাদের দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে দেয়।
অবশ্য, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। পাকিস্তানের দাবি তাদের সেনারা উচ্চ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং অন্যদেশের সেনাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল, এমনকি ভারতের বেলায়ও তার ব্যত্যয় ঘটে না।
এদিকে, ভারতীয় দুই সীমান্তরক্ষী হত্যার ঘটনা প্রকাশিত হওয়ার পর তাদেরই একজন বিএসএফ কনস্টেবল প্রেম কুমারের পরিবারের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখানো হয়।
ভারতের উত্তর প্রদেশের একটি ছোট্ট গ্রামে প্রেম কুমারের বাড়ি। সেখানে শত শত মানুষের সামনে তার যুবতী মেয়ে গণমাধ্যমের সামনে বলেন, “তার (বাবার) আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমি ৫০ টি মাথা চাই (I want 50 heads for his sacrifice)”।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রেমকুমারের মেয়ে ভারতীয় সেনাদের দেখিয়ে দিলেন দুই জওয়ানকে হত্যা ও তাদের মাথা বিচ্ছিন্ন করার অপরাধে পাকিস্তানী সেনাদের বিরুদ্ধে কোন মাত্রার প্রতিশোধ নিতে হবে।
এদিকে, নিহত আরেক ভারতীয় জওয়ান পরমজিত সিংয়ের পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। পরমজিতের গ্রামের বাড়ি পাঞ্জাবের টার্ন তারোনে ক্ষুব্ধ স্বজনরা বলেন, আমরা তার মৃতদেহ ভালোভাবে না দেখা পর্যন্ত তাকে পোড়াবো না এবং কোন ধরনের সৎকার করবো না।
জাতীয় পতাকায় মোড়ানো পরমজিতের বিকৃত শরীর না দেখার জন্য আগে থেকে বার্তা পাঠানো হলে তারা উত্তেজিত হয়ে বলেন, কেন আমরা তার মৃতদেহ দেখতে পারবো না? তার দেহ না দেখা পর্যন্ত আমরা এর সৎকারে কোন পদক্ষেপ নেবো না।
এদিকে, আজ (মঙ্গলবার) বিকেলে ভারতীয় সেনাবাহিনীর অপারেশন শাখার মহাপরিচালক (Director General of Military Operations -DGMO)) তার পাকিস্তানী প্রতিপক্ষকে এক কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছেন এবং পাকিস্তানের এ হত্যাকাণ্ডকে অমানবিক ও নারকীয় বলে আখ্যায়িত করেছেন।
কেবি





