জার্মানির পার্লামেন্ট নির্বাচনের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রবণতা দেখা যাচ্ছে—চ্যান্সেলর আঙ্গেলা ম্যার্কেল নিজের জনপ্রিয়তা ধরে রাখতে পেরেছেন এবং চতুর্থবারের মতো জার্মানির জনগণের সমর্থন আদায়ে সক্ষম হয়েছেন।

কট্টর ডানপন্থী দলের উত্থান ঘটছে এবং দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর এই প্রথম পার্লামেন্টে হাজির হচ্ছে তারা; সমাজতন্ত্রপন্থী দলের লজ্জাজনক পরাজয় ঘটেছে।

সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি পেয়েছে প্রায় ২১ শতাংশ ভোট। দলটির ভরাডুবি ইউরোপে বামপন্থীদের পিছিয়ে পড়া এবং ডানপন্থীদের উত্থানের আরেকটি উদাহরণ।

ডেনমার্কে ২০১৫ সালে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতা থেকে হটিয়ে দিয়েছিল মধ্য-ডানপন্থী জোট। এর নেতৃত্বে ছিল ভেনস্ত্রা পার্টি।

অস্ট্রিয়ায়ও আগামী নির্বাচনে সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির ভরাডুবি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফ্রান্সের গেল নির্বাচনে পরাজয়ের পর সোশ্যালিস্ট পার্টি এখনো সমস্যার আবর্তে বন্দী হয়ে আছে। অথচ আগের দফায় তারাই ক্ষমতায় ছিল। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইউরোপে কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর উত্থানের কারণেই সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা পিছিয়ে পড়ছে।

ম্যার্কেল যুগের আগে জার্মানির চ্যান্সেলর ছিলেন গেরহার্ড শ্রোয়েডার। তিনি সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট পার্টির। এরপর আসেন ম্যার্কেল। আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি বামপন্থী দলটি।

জার্মানিতে আগে সামাজিক ন্যায়বিচার ও সম্মানজনক মজুরি ছিল অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর এই বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টি।

কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ধারণা পাল্টে গেছে। অভিবাসন এবং নিরাপত্তাই এখন মুখ্য বিষয় হয়ে উঠছে। মার্কিন থিংকট্যাংক জার্মান মার্শাল ফান্ডের রাজনৈতিক গবেষক তিমো লকহোকির মতে, সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের মূল বিষয়গুলো এখন আর কাজে আসছে না।

জার্মানির বার্লিনের হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক তারিক আবু-ছাদি বলছেন, ‘অভিবাসন-বিতর্ক সামনে চলে আসার ফলে গত বছর ইউরোপজুড়ে সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটদের পতন ঘটছে। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাট দলগুলোর মধ্যেই অভিবাসন নিয়ে ভিন্নমত রয়েছে।

ফলে তারা এ নিয়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া থেকে বিরত থাকছে। এ সুযোগই নিচ্ছে উগ্র ডানপন্থীরা। এ ছাড়া ইউরোপের উচ্চশিক্ষিত যুবকেরা

যুক্তরাজ্যে অবশ্য পরিস্থিতি ভিন্ন। সেখানে গেল জুনে সাধারণ নির্বাচনে দারুণ সাফল্য পেয়েছে জেরেমি করবিনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি।

হামবোল্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক তারিক অবশ্য বলছেন, গত বছরের ব্রেক্সিট ফলাফলের কারণে যুক্তরাজ্যের পরিস্থিতি ভিন্ন। আর বাস্তবতা হলো যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে বেশ অজনপ্রিয়। জার্মানিতে ম্যার্কেলের অবস্থা ভিন্ন।

এ এস