টানা ৬৯ দিন পর অবস্থান কর্মসূচির ইতি টেনেছেন পাকিস্তানে সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত 'পাকিস্তান আওয়ামী তেহরিক' (পিএটি) পার্টির প্রধান ড. তাহিরুল কাদরি। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে তিনি অবস্থান কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন। তবে, তার আন্দোলনের সহযোগী তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টির চেয়ারম্যান ইমরান খান অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। খবর ডনের।

'বিপ্লব' তার লক্ষ্য অর্জন করেছে বলে দাবি করে অবস্থান কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণা করেন তাহিরুল কাদরি। তার এ আন্দোলন দেশের জনগণের মধ্যে জাগরণের তৈরি করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এখন অবস্থান কর্মসূচির বদলে সারাদেশে বিক্ষোভের আয়োজন করবেন বলেও জানান তিনি। এটাকে তিনি 'বিপ্লবের পরবর্তী ধাপ' বলে আখ্যায়িত করেন।

অবস্থান কর্মসূচির সমাপ্তি ঘোষণার সময় আওয়ামী তেহরিক পার্টির অনেক সমর্থক কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি। সমর্থকেরা নিজেদের তল্পিতল্পা গুটিয়ে নিয়ে চলে যান। এ সময় তারা পরস্পরকে বিদায় জানান।

এদিকে, গত জাতীয় নির্বাচনের ভোট পুনর্গণনার দাবিতে অনঢ় রয়েছেন ইমরান খান। তিনি প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবেন বলেও প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি ২০১৩ সালে জাতীয় নির্বাচনের স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।

তিনি দাবি করেন, একটি নির্বাচনী কেন্দ্রের ফলাফলের দুটি তালিকা দেশের নির্বাচন কমিশন দেখাতে পারেনি। এজন্য তিনি সুপ্রিম কোর্টে যাবেন বলেও জানিয়েছেন। তিনি দেশের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করবেন।

এ ছাড়া, ডিজেল ও পেট্রোলের দাম কমানোরও দাবি জানান ইমরান খান। তাছাড়া, মঙ্গলবার বন্ধ করে দেয়া টেলিভিশন চ্যানেল 'এআরওয়াই' চালুরও দাবি জানান তিনি।

উল্লেখ্য, গত আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে আন্দোলন শুরু করেন ইমরান খান ও তাহিরুল কাদরি। তাদের দল দুটি লংমার্চ করে রাজধানী ইসলামাবাদে গিয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তখন থেকেই দল দুটি অবস্থান কর্মসূচিতে ছিল। আন্দোলনের এক পর্যায়ে সামরিক হস্তক্ষেপেরও গুঞ্জন শুরু হয়েছিল। সূত্র: ডন

এসএমএ