তুরস্কের প্রতি চটেছে ইরান। সম্প্রতি ইয়েমেনে শিয়া মিলিশিয়া হুতিদের প্রতি ইরানের সমর্থনকে কেন্দ্র করে তুরস্ক ও ইরানের সম্পর্ক এখন সংকটজনক হয়ে পড়েছে। তুরস্কের প্রেসিডেন্টের মন্তব্যের ব্যাখ্যাও চেয়েছে ইরান। ইরানে তুরস্কের প্রেসিডেন্টের আগামী মাসের সফরটিও বাতিল হতে পারে। সব মিলিয়ে ইরান ও তুরস্কের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটতে যাচ্ছে। খবর ডনের।

সোমবার তেহরানে নিযুক্ত তুরস্কের সর্বোচ্চ কূটনীতিককে এরদোগানের মন্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চেয়ে ডেকে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রদূতের অনুপস্থিতে ডেকে পাঠানো হয় চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে। তেহরানস্থ তুরস্কের চার্জ দ্যা অ্যাফেয়ার্সকে ডেকে এরদোগানের মন্তব্যের ব্যাপারে আপত্তি ও নিন্দা জানায় ইরান। এরদোগানের বক্তব্যটি যথার্থ ও সত্য নয় বলেও প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছে ইরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারজেই আফখাম এক বিবৃতিতে তার দেশের প্রতিক্রিয়ার কথা জানান।

শুধু তাই নয়, এরদোগানের বক্তব্যের ব্যাপারটি পরিষ্কার করে ব্যাখ্যা দিতেও তুরস্ককে আহবান জানিয়েছে ইরান। আফখাম জানান, আগামী মাসে ইরানে এরদোগানের সম্ভাব্য সফরটি বাতিল করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত বৃস্পতিবার থেকে ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন আরব জোটের বিমান হামলাকে সমর্থন জানিয়েছে তুরস্ক। ইয়েমেনে দীর্ঘদিন সুন্নীপন্থী সরকার ক্ষমতায় থাকলেও গত কয়েক মাস ধরে শিয়া মিলিশিয়া হুতিরা ক্ষমতা দখলে নিতে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়। গত কয়েক মাস ধরে তারা বেশ অগ্রগতিও লাভ করে। গত মাসে তারা দেশটির রাজধানী সানা দখল করে নেয়। এখন দেশটির বন্দরনগরী এডেনও দখলে নেয়ার পথে হুতিরা। দেশটির সুন্নী প্রেসিডেন্ট আব্দুরাব্বু মানসুর হাদি প্রথমে সানা থেকে পালিয়ে এডেনে, তারপর সেখান থেকে পালিয়ে সৌদি আরবে চলে গেছেন। সৌদি আরব অন্য আরব দেশগুলোর সমর্থন নিয়ে হুতি বিদ্রোহীদের দমন করতে ও মানসুর হাদিকে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরাতে বিমান হামলা শুরু করে গত বৃহস্পতিবার।

সৌদি আরব ও আরব মিত্ররা সিদ্ধান্ত নেয় শিয়া মিলিশিয়া হুতিদের দমন না করা পর্যন্ত বিমান হামলা অব্যাহত রাখা হবে। গত কয়েকদিনের বিমান হামলায় অর্ধ শতাধিক নিহত হন। গতকাল রোববার মিশরে এক বৈঠকে আরব লীগ একটি যৌথ আরব বাহিনী গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করেছে। এই বাহিনী শুধু ইয়েমেন নয়, আরব দেশগুলোর যেখানে যেখানে অস্থিতিশীলতা রয়েছে, সেখানেই মোতায়েন করা হবে।

এদিকে, গত বৃস্পতিবার তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগান মন্তব্য করেন, "ইরান ও অন্যান্য সন্ত্রাসী গ্রুপগুলোকে ইয়েমেন থেকে অবশ্যই প্রত্যাখ্যাত করতে হবে।" শুধু তাই নয়, এরদোগান ইরাক ও মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশগুলোতেও ইরানের হস্তক্ষেপ ও প্রভাবিত করার চেষ্টার অভিযোগ আনেন। ইরাকে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে লড়তে শিয়া মিলিশিয়া গ্রুপগুলোকে ইরানের সহায়তা দেয়ার একমাত্র উদ্দেশ্য ইরাকে ইরানের প্রভাব বাড়ানো বলেও মন্তব্য করেন এরদোগান।

তার এ মন্তব্যের পর ইরান ক্ষোভে ফেটে পড়ে। ইরানের রাজনীতিবিদরা ও গণমাধ্যমগুলো এরদোগানের সমালোচনায় মুখরিত হয়ে উঠে। ইরান আগামী মাসের এরদোগানের সফরের আমন্ত্রণটিও প্রত্যাহার করে নেয়ার চিন্তা-ভাবনা করছে। ইরান বলছে, এরদোগানের এই সফরটি হবে ইরানি ও ইরানের বিপ্লবের প্রতি একটি অপমান।

এমএ