সাতশ বছর আগে স্কটিশরা ব্যানকবার্ন-এর যুদ্ধে শক্তিশালী ইংরেজদের পরাজিত করে প্রথমবারের মতো কয়েকশ বছর ধরে স্বাধীনতা ভোগ করে৷ আজ অবশ্য কোনো যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করছে না স্কটিশরা৷ অংশগ্রহণ করছে গণভোটে৷ স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার বিষয়টি নির্ধারিত হবে আগামী ১৮ই সেপ্টেম্বর, এক গণভোটের মাধ্যমে৷

স্বাধীনতার নিয়ে অবশ্য স্কটিশদের মধ্যে বিভক্তি রয়েছে। স্বাধীনতার পক্ষের মানুষদের যুক্তি হচ্ছে, একটি স্বাধীন স্কটল্যান্ড আরো আত্মপ্রত্যয়ী হতে পারে। প্রায় ৫০ লক্ষ মানুষ বাস করে স্কটল্যান্ডে৷ ছোট এই দেশটি তখন দ্রুত কোনো সংকট মোকাবেলা করতে পারবে৷ যেমন করে আইসল্যান্ড অর্থনৈতিক সংকট মোকাবেলা করেছে৷

একটি স্বাধীন স্কটল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকবে কি না, তা নিজেরাই ঠিক করতে পারে। জনসংখ্যার দিক থেকে স্কটল্যান্ড যুক্তরাজ্য অর্থ্যাৎ ব্রিটেনের একটা ছোট অংশ, পুরো ব্রিটেনের মাত্র আট শতাংশ মানুষ স্কটল্যান্ডে বাস করে। তাই গোটা দেশটিতে তাদের প্রভাব তেমন বেশি নয়৷

অন্যদিকে অবশ্য ব্রিটেনের সঙ্গে থাকার পক্ষেও যুক্তি রয়েছে। ব্রিটেনের সঙ্গে যারা থাকতে চান তাদের যু্ক্তি হচ্ছে, ব্রিটেনে তো স্কটল্যান্ডের অবস্থা ভালোই৷ স্বাধীন হয়ে গেলে স্কটল্যান্ডের অর্থনৈতিক পরিণাম কি হতে পারে, সে ব্যাপারেও উদ্বিগ্ন তারা৷ তাদের মতে, স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে সুফল বয়ে আনবে না৷ কেননা নিজস্ব পরিকাঠামো গড়ে তোলার মতো স্কটল্যান্ডের যথেষ্ট আয়ের উৎস নেই৷ এ ছাড়া স্বাধীন স্কটল্যান্ডে সম্ভাব্য লেবার সরকার ব্যবসায়ীদের জন্য ইতিবাচক হবে না বলে মনে করেন তিনি৷ স্কটল্যান্ডে ঐতিহ্যগতভাবে বাম ঘরানার দলগুলিকে নির্বাচন করা হয়৷

স্কটল্যান্ডের আদি গ্যালিক ভাষার এক ঐকতান সংগীত গোষ্ঠীর সদস্যরা সপ্তাহে একদিন মিলিত হন রিহার্সেল বা মহড়ার জন্য৷ স্বাধীন স্কটল্যান্ডের সম্ভাব্য সুবিধাগুলি কী হতে পারে? এই প্রশ্ন করা হলে সাথে সাথে তাদের কাছ থেকে টগবগে উত্তর পাওয়া যাবে: আরো সামাজিক সমতা, ভালো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা এবং সারা বিশ্বে এক শান্তির কণ্ঠস্বর, যা অ্যামেরিকানদের সঙ্গে যুক্ত থাকবে না৷ যারা আমাদের ইরাক ও আফগানিস্তানে ভয়ানক যুদ্ধে জড়িত করেছে৷

জরিপ বলছে, স্কটল্যান্ডে স্বাধীনতা বিরোধীদের সংখ্যা এর সমর্থকদের চেয়ে সামান্য বেশি৷ তবে, স্কটল্যান্ডের সর্বত্রই অনেক ভোটার এখনও দোদুল্যমান৷ সবশেষে হয়তো এই ভোটাররাই গণভোটের ফলাফলে প্রভাব বিস্তার করবেন এবং ৩০০ বছরের পুরানো ইউনিয়ন ব্রিটেনের (যুক্তরাজ্য) ভাগ্য নির্ধারণ করবেন। সূত্র: ডয়চে ভেলে

ঢাকা, ০৬ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) //এমএ