মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সেনাবাহিনীর এক ক্যাপ্টেনসহ একটি স্কোয়াডের সব সদস্য নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার মিয়ানমারের রাখাইনের উত্তরাঞ্চলের বুথিডংয়ে এ ঘটনা। তবে এ সংক্রান্ত প্রকাশিত হয়েছে সোমবার। খবর মিয়ানমারের ইংরেজি দৈনিক দ্য ইরাবতির।

গত শুক্রবার (৫ এপ্রিল) হামলার ঘটনাটি ঘটলেও গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে সোমবার।

মিয়ানমার সেনা প্রধানের কার্যালয়ের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জ্য মিন তুন ওই হামলার কথা স্বীকার করে বলেন, শুক্রবার রাখাইনে আরাকান আর্মির সঙ্গে সংঘর্ষে সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন চিত কো কো-সহ বেশ কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছে। তবে হামলায় ঠিক কতজন সেনা নিহত হয়েছেন সে তথ্য দেননি এ কর্মকর্তা।

নিহত ক্যাপ্টেন চিত কো কোর দীর্ঘদিনের বন্ধু স্য লিউইন স্য ফেসবুকে এক পোস্টে জানিয়েছেন, ক্যাপ্টেন চিত কো কোর নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর প্রায় ২০ সদস্য বাংলাদেশ সীমান্তের কাছের বুথিডংয়ে আরাকান আর্মির বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালাতে গিয়েছিল।

কিন্তু অপ্রত্যাশিতভাবে আরাকান আর্মির বিদ্রোহীরা সেনাবাহিনীর এই ইউনিটকে চারদিকে থেকে ঘিরে ফেলে। এসময় হামলা-পাল্টা হামলার মুখে তার বন্ধু ক্যাপ্টেন চিত বিদ্রোহীদের ছোড়া রকেট চালিত গ্রেনেডে আহত হন। আক্রান্ত ওই এলাকা থেকে তার মরদেহ সরিয়ে নিতে পারেনি সেনাবাহিনী।

তিনি দাবি করেন, তার বন্ধু চিত স্যাগাইং অঞ্চলে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তাকে রাখাইন প্রদেশের পশ্চিমাঞ্চলের সামরিক ঘাঁটিতে নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে তার নেতৃত্বে সেনাবাহিনীর একটি ইউনিটকে অ্যান শহরে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে আরাকান আর্মি তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বলেছে, আরাকান আর্মির যোদ্ধারা ওয়ার নেট ইওন অঞ্চলে সেনাবাহিনীর ৩৭৩ পদাতিক ব্যাটেলিয়নের ১৫০ সদস্যের সঙ্গে লড়াই করেছে। এতে ১২ সেনা সদস্য নিহত হয়েছে।

আরাকান আর্মির বিবৃতিতে আরো দাবি করা হয়েছে, চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই রাখাইনের বুথিডং, কিয়াকতু ও এমরাউক-ইউ শহরে সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ শুরু হয়েছে।

গত শুক্র ও শনিবারের সংঘর্ষে অন্তত ১৩ সেনাসদস্য নিহত হয়েছে বলে দাবি করে বৌদ্ধ বিদ্রোহীদের সংগঠনটি।

এএস