মিয়ানমারে আগস্টে সহিংসতা ছড়িয়ে পরার পর এক মাসে অন্তত ৬ হাজার ৭'শ রোহিঙ্গা হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মেডেসিনস স্যান্স ফ্রন্টিয়েরস (এমএসএফ)।

জরিপে মোট মৃতের সংখ্যা দাড়ায় ৯০০০। যেখানে প্রায় ৭১.৭ ভাগ অর্থ্যাৎ ৬,৭০০ রোহিঙ্গা শুধু মিয়ানমারের স্থানীয় জনগোষ্ঠি আর সেনাবাহিনীর নির্যাতনে মারা যায়।

জরিপে বলা হয় জাতিসংঘ বাংলাদেশে রোহিঙ্গা প্রবেশ ৬ লক্ষ ২০ হাজার ধরলেও যেটা বর্তমানে ৬ লক্ষ ৪৭ হাজার ছাপিয়ে গেছে। এছাড়াও আরও হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় মিয়ানমার সীমান্তে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এটা যে রোহিঙ্গাদের ওপর সহিংসতার মাত্রা বহন করে বলে তা জরিপে উল্লেখ করা হয়।

জরিপে তারা মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর ওপর শিশু হত্যার অভিযোগ তোলেন। ৫ বছরের নিচে প্রায় ৭৩০ জন শিশুকে হত্যা করা হয় এই হত্যাকাণ্ডে।

যেখানে প্রায় ৫৯ ভাগ শিশুকে গুলি করে, ১৫ ভাগ শিশুকে আগুনে পুড়ে ,৭ ভাগ শিশুকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করে এবং ২ ভাগ শিশুকে ল্যান্ডমাইন বিস্ফোরণের মাধ্যমে হত্যা করা হয়।

প্রায় ৬ লক্ষ রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন আর তাদের মতামতের ভিক্তিতে এই জরিপ করা হয়। এমএসএফ জানায়, জরিপ করার সময় তারা শুধুমাত্র যারা সরাসরি নির্যাতনে শিকার হয়েছে বা কাউকে মেরে ফেলতে দেখেছে তাদেরকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। তারা এটাও জানায় এমন অনেক পরিবার আছে যাদের পুরো পরিবারকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে কিন্তু তাদের পরিসংখ্যানটা তথ্যের অভাবে আমরা তুলে ধরতে পারি নাই।

জাতিসংঘ থেকে এই সহিংসতাকে জাতিগত নিধন বলে উল্লেখ করা হয়। যদিও মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দাবি তারা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে। তারা আরও দাবি করে মোট ৪০০ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করে যারা জঙ্গি কার্যক্রমের সাথে সংযুক্ত ছিল। যেটা সম্পূর্ণ উপরোক্ত জরিপের আলোকে মিথ্যা।

 

এএস