ইউক্রেনের পাশ্চাত্যপন্থী অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, রাশিয়ার সঙ্গে তার দেশের উত্তেজনা সামরিক পর্যয়ে পৌঁছে গেছে। ক্রিমিয়া উপদ্বীপে এক গুলিবর্ষণের ঘটনায় ইউক্রেনের এক সেনা নিহত হয়েছে বলে খবর পাওয়ার পর মন্ত্রিসভার এক জরুরি বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আরসেনি ইয়াতসেনিউক বলেন, “সংঘাত রাজনৈতিক পর্যায় থেকে সামরিক পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে।” এ অবস্থায় ক্রিমিয়ায় মোতায়েন ইউক্রেনের সেনাদের আত্মরক্ষার্থে গুলি চালানোর অনুমতি দেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। ইউক্রেনের অন্তর্বর্তী প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রুশ সেনারা ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি করতে শুরু করেছে যা একটি যুদ্ধাপরাধ।”
গত কয়েকদিনে ইউক্রেনের স্বশাসিত প্রজাতন্ত্র ক্রিমিয়ায় নাটকীয় কিছু ঘটনা ঘটে গেছে। রোববার সেখানকার জনগণ ইউক্রেন থেকে বেরিয়ে গিয়ে রাশিয়ার সঙ্গে একীভূত হওয়ার পক্ষে হ্যা ভোট দিয়েছে। পরদিন সোমবার ক্রিমিয়ার আঞ্চলিক পার্লামেন্ট একতরফাভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে। আর তার পরদিন মঙ্গলবার রাশিয়ায় একীভূত হয়ে যাওয়ার জন্য মস্কোর সঙ্গে চুক্তি সই করেছেন ক্রিমিয়ার নেতারা।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাশিয়ার শীর্ষস্থানীয় বহু নেতার ওপর ভিসা ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আমেরিকা ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন। মস্কো পাশ্চাত্যের এ পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করেছে। শীতল যুদ্ধ শেষ হয়ে যাওয়ার পর গত দুই দশকেরও বেশি সময়ে আমেরিকার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্কে এতটা তিক্ততা সৃষ্টি হয়নি।
এ সম্পর্কে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সার্বিয়া থেকে কসোভোর একতরফা স্বাধীনতা ঘোষণার পক্ষে আমেরিকার অবস্থানের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেছেন, কসোভোয় অনুষ্ঠিত গণভোটের সূত্র ধরে যদি সেটি স্বাধীন হয়ে যেতে পারে তাহলে ক্রিমিয়াও তা করতে পারে। পুতিন বলেন, “আপনি যে কাজটিকে গতকাল সাদা বলেছেন সেটিকে আজ কালো বলতে পারেন না।” সূত্র: আইআরআইবি
[b]ঢাকা, ১৯ মার্চ (টাইমনিউজবিডি) //এমএ[/b]