কানাডায় সম্প্রতি দুই সেনাসদস্যকে হত্যার ঘটনার পর মুসলিমদের ওপর হয়রানির ঘটনা বেড়ে গেছে। দেশটিতে পাবলিক প্লেস ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হয়রানির শিকার হচ্ছেন মুসলিমরা। খবর রয়টার্সের।
সেনাহত্যার ঘটনায় পরোক্ষভাবে আইএস'র (ইসলামিক স্টেট) অনুপ্রেরণা কাজ করেছে বলে উল্লেখ করে দেশটির কর্তৃপক্ষ। এর পরই দেশটিতে মুসলিম নাগরিকদের ওপর হয়রানির ঘটনা বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছে মুসলিম সংগঠনগুলো।
দ্য ন্যাশনাল কাউন্সিল অব কানাডিয়ান মুসলিমস জানায়, দেশটিতে বসবাসরত মুসলিমরা পাবলিক বাস, প্রাইভেট কার এবং স্কুলগুলোতে বিভিন্ন বর্ণবাদী স্লোগান ও বাজে ব্যবহারের সম্মুখীন হচ্ছেন।
দেশটির মানবাধিকার সংস্থার পক্ষ থেকেও এ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করা হয়েছে। সংস্থাটির সমন্বয়ক অ্যামি আওয়াদ বলেন, ‘আমরা ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করতে প্রচারণা চালিয়ে ইতিবাচক সাড়া পেয়েছি। কিন্তু এর (মুসলিমদের হয়রানি) বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগও পাওয়া যাচ্ছে।’
কুইবেক কালেক্টিভের সমন্বয়ক আদিল চরকৌয়ি জানান, গত সপ্তাহে এ ধরনের অন্তত ৩০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা গেছে, মুসলিমদের ওপর হয়রানির বিষয়টির তদন্তে যাওয়া এক অভিনেতাকে বাসস্ট্যান্ডে বেশ বিরূপ পরিবেশের মুখোমুখি হতে হয়। এ সময় তার মুখে আঘাত করে ওন্তারিও'র হ্যামিলটনের এক বাসিন্দা।
আলবার্টার কোল্ড লেকে একটি মসজিদ সংস্কারে বাধা দিয়েছে স্থানীয়রা। তারা সংস্কার কার্যক্রম ভণ্ডুল করে দিয়ে মসজিদের দেয়ালে "ঘরে ফিরে যাও" লিখে দেয়।
গত ২২ অক্টোবর কানাডার ওটোয়ার সংসদ ভবনে এক বন্দুকধারীর গুলিতে এক সেনা সদস্য নিহত হয়। এ ঘটনার দুই দিন পর মন্ট্রিলের কাছে কার থেকে এক ব্যক্তির করা এলোপাথারি গুলিবর্ষণে এক সেনা সদস্য নিহত ও একজন আহত হয়।
এ ঘটনার পরপরই বেশ কয়েকটি মুসলিম সংগঠন এর নিন্দা জানায়।
বেশ কিছুদিন আগে ইরাকে আইএসকে দমনে মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিমান হামলায় যোগ দেয় কানাডা। এ কারণে আইএস'র কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত দুই ব্যক্তি ওই ঘটনাগুলো ঘটিয়েছে বলে ধারণা করছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ইআর





