যুক্তরাষ্ট্রের বাহামা দ্বীপপুঞ্জের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ৫ মাত্রার মহাশক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ডোরিয়ান আঘাত হেনেছে। এ সময় ঝড়ো হাওয়ার তীব্রতা রেকর্ড করা হয় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৮৫ কিলোমিটার।
যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্র (এনএইচসি) জানিয়েছে, ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক’ এই ঘূর্ণিঝড়টি সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এ অঞ্চলে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়।
ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাব্য গতিপথে বসবাসকারী গ্র্যান্ড বাহামার বাসিন্দারা বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র সরে যাচ্ছেন।
ঘূর্ণিঝড়ের কারণে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাস প্রাণহানিকর হতে পারে বলে এরই মধ্যে সতর্ক করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা ২৩ ফুট পর্যন্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় রোববার বিকেল ৪টায় অ্যাবাকো দ্বীপের এলবো কে অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়টি আঘাত হানে। এর পর থেকে দ্বীপটির বিভিন্ন এলাকা পানিতে ডুবে আছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাহামাবাসীর পোস্ট করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ঘূর্ণিঝড়ে দ্বীপপুঞ্জের বিভিন্ন এলাকার ঘরবাড়ির চাল উড়ে গেছে, পানি উঠেছে অনেকে বাড়িঘরে। ভিডিওতে আরো দেখা যায়, জঞ্জালসহ পানিতে ভাসছে নৌকা।
ধারণা করা হচ্ছে, ঘূর্ণিঝড়টি স্থানীয় সময় রোববার রাত থেকে সোমবারের মধ্যে ঘণ্টায় সাত মাইল বেগে গ্র্যান্ড বাহামা দ্বীপের ওপর দিয়ে আরো পশ্চিম দিকে সরে যাবে।
দ্বীপপুঞ্জের বেশ কিছু বিমানবন্দর বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরটি এখন পর্যন্ত খোলা রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সময় রোববার ফেসবুকে এক লাইভ বার্তায় এনএইচসি পরিচালক কেন গ্রাহাম জানিয়েছেন, ১০ ঘণ্টা বা তার চেয়ে বেশি সময় পর্যন্ত বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়কালীন পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বাহামাবাসীকে যেতে হবে।
ঘূর্ণিঝড়টি স্থানীয় সময় সোমবার ভোররাত থেকে মঙ্গলবার রাত নাগাদ ফ্লোরিডার পূর্ব উপকূলের কাছাকাছি পৌঁছাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্যাফির-সিম্পসন স্কেল অনুযায়ী ১ থেকে ৫ মাত্রার এ ধরনের ঘূর্ণিঝড় ফ্লোরিডার মতো উষ্ণ পানির অঞ্চল দিয়ে অতিক্রম করার সময় আরো শক্তিশালী হয়ে ওঠার আশঙ্কা থাকে।
প্রচণ্ড ঘূর্ণি হাওয়াসহ ডোরিয়ান ঘূর্ণিঝড়টির আকার বর্তমানে তার কেন্দ্র থেকে ৭৫ কিলোমিটারব্যাপী।





