ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নয়াদিল্লীতে এক বৈঠকে সীমান্ত সমস্যা সমাধানে একমত হয়েছেন। দু’নেতা দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে জটিলতার অবসানে সহমত প্রকাশ করেছেন।

আজ দিল্লীতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিংপিং ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও মধ্যে এক বিরল শীর্ষ বৈঠক আনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে এক যৌথ সাংবাদ সন্মেলনে নিয়ন্ত্রণরেখা নিয়ে জটিলতার অবসানে দ্রুত আলোচনা শুরুর আগ্রহ প্রকাশ করেন দুই নেতা।

আনুষ্ঠানিক বৈঠক শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, ‘আমি সীমান্তের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছি যে সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা সুসম্পর্কের বুনিয়াদ।’

তিনি বলেন ‘শি একমত হয়েছেন যে সীমান্ত সমস্যা দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া জরুরি।’

বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, ভারতকে চীন চিরকালের কৌশলগত অংশীদার হিসেবে দেখে। চীন ভারতের সঙ্গে আরো ঘনিষ্ঠ অংশীদারি সম্পর্কের উন্নয়নে যৌথ প্রচেষ্টা চালাতে ইচ্ছুক। সীমান্ত বিষয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে দু’পক্ষের জন্য গ্রহণযোগ্য সমাধান অনুসন্ধান করা উচিত। চূড়ান্ত সমাধানের আগে সীমান্ত এলাকার শান্তি ও নিরাপত্তা বজায় রাখা উচিত।

তাদের উপস্থিতিতেই এদিন নাথু লা দিয়ে মানস সরোবর যাত্রার বিকল্প পথ চালু করা নিয়ে চুক্তি সই হয়। এই পথ চালু হলে অনেক কম সময়ে এবং কম খরচে মানস সরোবর যাত্রা করা যাবে। আগামী ৫ বছরে ভারতে বিশ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে চীন। এ ছাড়াও পরিকাঠামো উন্নয়ন, বুলেট ট্র্রেন এবং সাংস্কৃতিক বিনিময় নিয়েও একাধিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

আজকের বৈঠকে দু’দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে। চীনের প্রেসিডেন্টের সফরসঙ্গী হিসেবে রয়েছেন সে দেশের প্রায় পঞ্চাশ থেকে ষাটজন শিল্পপতি। ফলে এ দেশে প্রায় তিন থেকে চার বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের সম্ভাবনা থাকছেই।

উল্লেখ্য, চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বর্তমানে তিন দিনের ভারত সফরে রয়েছেন। গত আট বছরের মধ্যে তিনিই ভারত সফরে আসা প্রথম চীনা প্রেসিডেন্ট।

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, এসএমএ