পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছেন, বাংলাদেশে পালিয়া আসা রোহিঙ্গা নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার চলমান প্রক্রিয়ায় অবশেষে জাতিসংঘকে করতে রাজি হয়েছে মিয়ানমার। তারা জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থাকে (ইউএনএইচসিআর) যুক্ত করছে বলেও জানান তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীতে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সহায়তা সংস্থাভুক্ত (ওআইসি) দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সম্মেলন শেষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এ সব কথা বলেন।

শাহরিয়ার আলম বলেন, ‘দীর্ঘসময় এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে মিয়ানমার এবং বাংলাদেশের। সেখানে তারা প্রথমে রাজিই ছিল না। কোনো ডকুমেন্টেই ইউএন বা ইউএনএইচসিআরকে লিখতে। তা আমরা আমাদের পার্টে (অংশ) লিখেছিলাম।

আমরা ইতিমধ্যে সম্পৃক্ত করেছি। কিন্তু এখন আশার কথা হচ্ছে এটা একটা খুবই বড় পজিটিভ উদ্যোগ বা পদক্ষেপ আমি বলব, যে মিয়ানমার সরকার এখন ইউএনএইচসিআরের সাথে এনগেজ হয়েছে। এটা জাতিসংঘ আমাদের কনফার্ম করেছে। এই পজিটিভ উদ্যোগগুলোর মধ্য দিয়ে আশা করি সমস্যাগুলোর সমাধান হবে।’

প্রতিমন্ত্রী জানান, এত দিন পর্যন্ত মিয়ারনমার কোনোভাবেই রাজি ছিল না যে বাংলাদেশ থেকে রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের কোনো সংস্থা যুক্ত হোক। অবশেষে এমন অবস্থান থেকে সরে এসে মিয়ানমার এখন রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় ইউএনএইচসিআরকে যুক্ত করতে চাওয়াকে ইতিবাচক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

গত বছরের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে সেনাবাহিনী। এরপর গণহত্যা, নির্যাতন, ধর্ষণ, নির্যাতনের মুখে সাত লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তাদের ফিরিয়ে নিতে মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকে সই চুক্তি করে বাংলাদেশ।

এমআর