ভারতীয় শিখ বংশোদ্ভুত পয়তাল্লিশ বছরের কানাডিয়ান নাগরিক হারজিৎ সাজ্জানকে কানাডার নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।

কানাডার ২৩তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণকারী জাস্টিন ট্রুডোর মন্ত্রীসভায় স্থান পেলেন এই ভারতীয় বংশোদ্ভুত নাগরিক।

কানাডার অটোয়ায় রিদুয়া হলে লিবারেল পার্টির নেতা জাস্টিন ট্রুডো ও তার ৩০-সদস্যের মন্ত্রী পরিষদের সদস্যরা বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত সাড়ে ৯টায় শপথ নেন।

কানাডিয়ান সেনাবাহিনীর এই সুসজ্জিত লেফটেনেন্ট কর্ণেল দেশটির দক্ষিণ ভ্যানকোভার এলাকা থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এই বিখ্যাত যুদ্ধ বিশারদ কানাডার হয়ে বসনিয়ায় দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন।

এছাড়া আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে তিন দফায় যুদ্ধ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে এই শিখ বংশোদ্ভুত সামরিক কর্মকর্তার।

উল্লেখ্য, বিপুল জনসমাগম ও উৎসবমুখর পরিবেশে কানাডার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেয়া জাস্টিন ট্রুডোর বাবাও এক সময় দেশটির প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তবে, সেটি প্রায় ৫০ বছর আগের কথা।

অপরদিকে, ট্রুডোর মন্ত্রী পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়া ভারতীয় নাগরিক সাজ্জান এরই মধ্যে অসংখ্য সামরিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। এর মধ্যে ২০১৩ সালের মেধাবি সেবা মেডেল (Meritorious Service Medal in 2013) অন্যতম। আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশে তালেবানদের একচেটিয়া দাপট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার জন্য তাকে ওই পুরস্কার দেয়া হয়।

কানাডার গভর্ণর জেনারেলের ওয়েবসাইটে সাজ্জান শিখ সম্পর্কে আরও বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের স্থানীয় কৃষ্টি-কালচার ও উপজাতীয় রীতি-নীতির খুঁটিনাটি সম্পর্কে অত্যন্ত ওয়াকিবহাল এই ভারতীয় বংশোদ্ভুত সামরিক কর্মকর্তার মতামতের ওপর ভিত্তি করেই বিভিন্ন প্রভাবশালী আফগান উপজাতীয় নেতাদের তালেবানবিরোধী জোটে অন্তর্ভূক্ত করা সম্ভব হয়েছিল।

শুধু তাই নয় আফগানিস্তানে বিদ্রোহীদের সশস্ত্র হামলা পরিকল্পনা ও তাদের সামরিক অবস্থান চিহ্নিত করার ক্ষেত্রেও সাজ্জান শিখের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল বলেও ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়।

কানাডার প্রভাবশালী গণমাধ্যম “কানাডিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পরেশন-সিবিসি”-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, ৪৫ বছরের সাজ্জান (জন্ম ১৯৭০ অথবা ১৯৭১) ভারতে জন্মগ্রহণ করেন এবং মাত্র ৫ বছর বয়সে পরিবারের সাথে কানাডায় গমন করেন।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে আরও বলা হয়, ভারতীয় বংশোদ্ভুত এই কানাডিয়ান নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী সাজ্জান শিখ ইরাক ও সিরিয়ায় আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আইএসআইএস (ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এ্যান্ড সিরিয়া)-এর বিরুদ্ধে যুদ্ধে দেশটির নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোকে সহায়তা করবে।

উল্লেখ্য, সিরিয়া ও ইরাকে আইএসআইএস-এর বিরুদ্ধে পশ্চিমা বিশ্বের যৌথ সামরিক পদক্ষেপে কানাডাও অংশ নিয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, আইএস বিরোধী অবস্থানে কাডানার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে তা নির্ধারণে নতুন প্রধানমন্ত্রীকে দিক-নির্দেশনা প্রদানের ক্ষেত্রে সাজ্জানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে।

আর এরই আলামত হিসেবে ইতোমধ্যেই আইএস তথা সন্ত্রাসবিরোধী আমেরিকার নেতৃত্বাধীন কোয়ালিশনে কানাডা নিজের নতুন অবস্থানের কথা জানিয়ে দিয়েছে।

দেশটির নতুন সরকার আমেরিকার নেতৃত্বাধীন বিমান হামলা (fighter jets) থেকে সরে আসবে বলে ঘোষণা দিয়েছে।

তবে, ইরাকি সেনাদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নিজেদের সম্পৃক্ত রাখার কথা জানিয়েছে ট্রুডোর নেতৃত্বাধীন কানাডার নতুন সরকার। (সূত্র: এনডিটিভি, সিবিসি নিউজ ও ইন্টারনেট)

কেবি