পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে তিন সপ্তাহ ধরে চলা বিক্ষোভ সর্বশেষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত পুলিশের সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৬ জন নিহত হয়েছে। এতে আহত হয়েছে আরও দুই শতাধিক।
সর্বশেষ পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গতকাল শনিবার সেনাবাহিনীকে তলব করে ইসলামাবাদ। এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে বাধ্য হয় প্রশাসন।
এএফপির খবরে বলা হয়েছে, রাজধানীর আশপাশের অন্যান্য শহরেও বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। তবে ইসলামাবাদেই সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ হয়েছে। তেহরিক-ই-লাবাইক নামের একটি সংগঠনের হাজারেরও বেশি সদস্য ওই শহরে জড়ো হন। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে নিরাপত্তা বাহিনীর প্রায় চার হাজার সদস্য মাঠে নামেন। এরপরই সংঘর্ষের সূত্রপাত।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এ সময় কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়েন। বিক্ষোভকারীরা রাস্তায় অবরোধ তৈরি করে এবং পুলিশের কিছু যানবাহনেও আগুন ধরিয়ে দেয়।
আইনমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে তিন সপ্তাহ ধরেই রাজধানীতে বিক্ষোভ করে আসছিলেন তেহরিক-ই-লাবাইকের নেতা-কর্মীরা। প্রধান সড়ক অবরুদ্ধ থাকায় শহরটি প্রায় অচল হয়ে পড়ে।
এদিকে পাকিস্তানের গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ স্থানীয় টিভি চ্যানেলগুলোকে সংঘর্ষের ঘটনার সরাসরি সম্প্রচারে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। যদিও ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার চলছে।
ইসলামাবাদ পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র জানান, নিহতদের মধ্যে পুলিশ সদস্যসহ বিক্ষোভকারীরাও রয়েছেন। হতাহত ব্যক্তিদের পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্স নামের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৯৩ জনই নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য বলে জানিয়েছেন ওই হাসপাতালের একজন মুখপাত্র।
তেহরিক-ই-লাবাইক একটি স্বল্পপরিচিত কট্টরপন্থী ইসলামী সংগঠন। ৬ নভেম্বর থেকে এই দলের নেতা-কর্মীরা ইসলামাবাদের প্রধান সড়ক অবরোধ করছিলেন।
জেড





