অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চলে খাদ্যাভাবে হাজারো পেঙ্গুইন মারা যাচ্ছে। সমুদ্রে অস্বাভাবিকভাবে বরফ জমে থাকার কারণে খাবার যোগাড় করতে পারছে না এরা।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শুরুতে একটি পেঙ্গুইন কলোনিতে জন্ম নেয়া চল্লিশ হাজার শাবকের মধ্যে মাত্র দু’টি শাবক বেঁচে আছে। প্রসবকালীন ঋতুতে ঘটা এক মারাত্মক বিপর্যয়ের ফলে এমনটা ঘটে।
বিশ্ব বন্যপ্রাণী ফেডারেশন (ডব্লিউডব্লিউএফ) বলছে, পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার টেরা এডিলি এলাকার পেঙ্গুইনদেরকে খাদ্য সংগ্রহের জন্য অন্যান্য বছরের তুলনায় বেশি পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। তাদের খাদ্য নিয়ে ফিরে আসতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি সময় লাগছে। এই দীর্ঘ সময়ে অনেক পেঙ্গুইন শাবক অভুক্ত অবস্থায় মারা যাচ্ছে।
সাধারণত পেঙ্গুইনরা পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকা এলাকায় বিচরণ করে। কিন্তু সাম্প্রতিককালের জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে এটি বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। চার বছর আগেও একবার দুর্যোগের কারণে পেঙ্গুইনদের প্রজনন প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্থ হয়েছিলো। তখন বিশ হাজার জোড়া পেঙ্গুইনের ওই কলোনিতে একটি বাচ্চাও জন্ম নেয় নি।
ডব্লিউডব্লিউএফ এর পোলার প্রোগ্রামের প্রধান কর্মকর্তা রড ডাউনি বলেন, এডিলি পেঙ্গুইনরা পৃথিবীর অন্যতম বিস্ময়কর প্রাণী। সাম্প্রতিককালে পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকায় পেঙ্গুইনদের অন্যতম খাদ্য ক্রিল মাছ-শিকারিদের অনুপ্রবেশ বেড়ে গেছে।
ফলে ওই অঞ্চলে পেঙ্গুইনদের খাদ্যসংকট প্রকট করে তুলছে। এমনটা চলতে থাকলে পেঙ্গুইনদের জন্য এক ভয়াবহ সঙ্কটের সৃষ্টি হবে। সংকট উত্তরণে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এন্টার্টিকার পশ্চিমে একটি সংরক্ষিত এলাকা তৈরি করা যেতে পারে, যেখানে ক্রিল মাছে শিকারিরা প্রবেশ করতে পারবে না। ফলে পেঙ্গুইনদের খাবার সংগ্রহ হবে নির্বিঘ্নে।
অন্যদিকে এডিলি পেঙ্গুইন প্রোগ্রামের মুখ্য কর্মকর্তা ইয়ান রপার্ট কডার্ট বলেন, যদিও জলবায়ু বিপর্যয়ে সৃষ্ট প্রজনন সংকট আমরা পুরোপুরি ঠেকাতে পারবো না, তবে একটি সংরক্ষিত এলাকা তৈরি করে পেঙ্গুইনদের খাদ্যাভাবজনিত সংকট অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
জেড





