পাকিস্তানে সন্দেহভাজন তালেবান বিদ্রোহীরা সপ্তাহান্তে করাচির একটি নৌ জাহাজ ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় এক পাকিস্তানি কর্মকর্তা ও দুই তালেবান মারা যায়। মঙ্গলবার কর্মকর্তারা একথা জানান।
তেহরিকে-তালিবান-পাকিস্তান (টিটিপি) হামলার দায় স্বীকার করেছে। টিটিপি'র মুখপাত্র শহীদুল্লাহ শহীদ বলেন, করাচিতে হামলার দায় আমরা স্বীকার করছি। আমরা নৌ জাহাজ ঘাঁটির ভেতর থেকে সমর্থন পেয়েছি। আর এই সমর্থনের কারণে আমাদের অভিযান সফল হয়েছে। ভবিষ্যতে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীকে লক্ষ্য করে এধরণের হামলা অব্যাহত থাকবে।
নৌবাহিনীর এক মুখপাত্র জানান, কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত ওই নৌ জাহাজ ঘাঁটিতে শনিবারের হামলায় এক কর্মকর্তা ও ছয় নাবিক আহত হয়। তিনি আরো জানান, হামলা চালানোর সময় চার জঙ্গিকে জীবিত আটক করা হয়।
সন্দেহভাজন এ চার ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের পর নৌবাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, গোয়েন্দা বাহিনীর সদস্যরা তাদের সহযোগিদের গ্রেফতারে অভিযান চালায় এবং ‘ব্যাপক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে।’
এ হামলার খবর তিনদিন ধরে গোপন রাখা হলেও কোন গ্রুপ এর দায়িত্ব স্বীকার করেনি। তবে সরকারি কর্মকর্তারা এ হামলার ঘটনায় পাকিস্তানি তালেবানকে দায়ী করে।
তালেবান জঙ্গিরা ইতোমধ্যে আফগান সীমান্তবর্তী পাকিস্তানের উত্তর ওয়াজিরিস্তানে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেয়ার হুমকি দিয়েছে।
উল্লেখ্য, করাচি বিমানবন্দরে ব্যাপক জঙ্গি হামলার পরপরই পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী মধ্য জুন থেকে জঙ্গি বিরোধী ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু করে। করাচি বিমানবন্দরে ওই হামলায় অনেক লোক নিহত হয় এবং এতে তেহরীক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সাথে শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যায়।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তালেবানের ধারাবাহিক হামলার ক্ষেত্রে সপ্তাহান্তের ওই হামলা ছিল সবচেয়ে বেশী ভয়াবহ।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জানায়, তাদের অভিযানের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ৯শ’র বেশী জঙ্গি ও ৮২ সৈন্য নিহত হয়েছে। সূত্র: এএফপি।
ঢাকা, ৯ সেপ্টেম্বর, টাইমনিউজবিডি.কম, টিআই





