মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় পেন্টাগনের ফাঁস হওয়া কয়েক বছর আগের এক রিপোর্টে বলা হয়েছে, কথিত আইএস বা আইএসআইএল সিরিয়ায় মার্কিন নীতিরই প্রত্যক্ষ ফসল।

পেন্টাগন এখন থেকে তিন বছর আগেই আইএসআইএল জাতীয় তাকফিরি-ওয়াহাবি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আত্মপ্রকাশের বিষয়টি জানতো বলে এতে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে মিডল ইস্ট আই। জুডিশিয়াল ওয়াচ নামের ওয়াশিংটনের একটি আইনি ফার্মও প্রতিবেদনটি পেয়েছে।

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য এজেন্সি বা ডিআইএ’র গোপন এই প্রতিবেদন অনুযায়ী আইএসআইএল-কে সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের সরকারকে অস্থিতিশীল করার পশ্চিমা প্রচেষ্টার সম্ভাব্য ফসল হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং সিরিয়ার আসাদ সরকারকে একঘরে বা কোণঠাসা করা ও ইরাকের সরকারকে দুর্বল করার জন্যই গড়ে তোলা হয়েছে আইএসআইএল।

পশ্চিমা সরকারগুলো সিরিয়ায় কথিত ‘ইসলামপন্থী বিদ্রোহী গ্রুপগুলোকে’আর্থিক, সামরিক ও জরুরি নানা সাহায্য দিয়ে আসছে সৌদি আরব, কাতার, আরব আমিরাত, জর্দান ও তুরস্কসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্য মিত্রদের মাধ্যমে।

মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ পেন্টাগনের ওই প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, সিরিয়ায় অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারী প্রধান শক্তিগুলো হল, সালাফি-ওয়াহাবি উগ্রবাদীরাসহ ব্রাদারহুড এবং আল-কায়দা ইন ইরাক বা একিউআই। এই প্রতিবেদনে ফ্রি সিরিয়ান আর্মির নমনীয় বা মধ্যপন্থী বিদ্রোহী ও কথিত ইসলামপন্থী জঙ্গিদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করা হয়নি এবং আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বিরোধিতার মধ্যেও কোনো পার্থক্য দেখানো হয়নি।

কথিত ইসলামী গ্রুপগুলোর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা সিরিয়ার বিদ্রোহী জোটকে প্রথম থেকেই সহায়তা দিচ্ছিল সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আলকায়দা ইন ইরাক।

পাশ্চাত্য আলকায়দাকে একটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী বলে প্রচার করে আসলেও সিরিয়ায় আলকায়দাকে আসাদের বিরুদ্ধে সব ধরনের সহায়তা দিয়ে এসেছে।

দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পর থেকে প্রকাশিত গোপন নানা দলিলে দেখা গেছে, পশ্চিমা সরকারগুলো প্রায়ই স্বীকার করেছে যে নিজস্ব ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থে তারাই ইসলামী উগ্রবাদের বিস্তার ঘটিয়েছে।

ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ আইএসআইএল-এর কাছ থেকে তেল কিনছে বলে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে ইরাকে নিযুক্ত ইউরোপীয় জোটের পররাষ্ট্র কমিটির কর্মকর্তা Jana Hybaskova জানান। আইএসআইএল ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে সিরিয়ার হাসাকা ও দেইর ইজ্জর-এর তেলক্ষেত্রগুলো দখল করে। আর এর পরপরই তারা পশ্চিমা অর্থ সাহায্য পেয়েছে।

সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, বর্তমান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ও রিপাবলিকান দলীয় সাবেক প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী জন ম্যাককিন আইএসআইএল সৃষ্টিতে মার্কিন সরকারের পিতৃস্থানীয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন প্রকাশ্যেই।

বর্তমান মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে বলেছিলেন, তুরস্ক, সৌদি ও আরব আমিরাত সরকার আলকায়দা এবং আননুসরাকে অর্থ ও অস্ত্র যুগিয়েছে। তুরস্ক ও আরব আমিরাত বাইডেনের এই বক্তব্যের প্রতিবাদ জানালে তিনি এই বেফাঁস (সত্য) মন্তব্যের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন ও তার বক্তব্য ফিরিয়ে নেন।

ইআর