যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রভাবশালী কংগ্রেসম্যান পাকিস্তানকে ‘সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক’ হিসেবে অ্যাখ্যা দেয়ার জন্য প্রতিনিধি পরিষদে একটি বিল উত্থাপন করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান দুই দল-ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান দলের এই দুই সদস্য বলছেন, সময় এসেছে পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের পৃষ্ঠপোষক হিসাবে আখ্যায়িত করা হোক।

ভারতের উরির সেনা চৌকিতে জঙ্গি হামলায় ১৮ সেনা সদস্য নিহত হওয়ার পর পাকিস্তান যখন আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে ঠিক সেসময় এই বিলটি আনা হলো।

এদিকে, জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ এই মুহুর্তে যখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন তখনই এমন একটি বিল আনা হলো।

ঐ হামলার পর পাকিস্তানকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একঘরে করার ঘোষণা দেয় ভারত। উরির হামলার পর পরমানু শক্তিধর এই দুই প্রতিবেশি দেশের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বিল উত্থাপনকারীদের একজন সন্ত্রাস বিষয়ক হাউস উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এবং কংগ্রেস সদস্য টেড পো বলেন, ‘সময় এসেছে বিশ্বাসঘাতকতা করার জন্য পাকিস্তানকে মূল্য দেয়ার।’

‘পাকিস্তান স্টেট স্পন্সর অব টেররিজম ডেসিগনেশন অ্যাক্ট’ (এইচআর ৬০৬৯) বিলটি উপস্থাপন করেছেন রিপাবলিকান দলের সদস্য পো এবং ডেমোক্রেট দলের কংগ্রেস সদস্য ডানা রোহরাবাচার। এই দুজন যুক্তরাষ্ট্রের সন্ত্রাস বিষয়ক কংগ্রেস কমিটির প্রভাবশালী সদস্য।

কংগ্রেসম্যান মি: পো বলেন, ‘পাকিস্তান শুধু যুক্তরাষ্ট্রের অবিশ্বাসযোগ্য মিত্রই নয়, ইসলামাবাদ বেশ কয়েক বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের শত্রুদের মদদ দিয়ে আসছে।’

তিনি অভিযোগ করে আরও বলেন, ‘ওসামা বিন লাদেনকে আশ্রয়দান দেয়া ছাড়াও হাক্কানি নেটওয়ার্কের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক ছিল পাকিস্তানের। এসব প্রমাণ থেকেই স্পষ্ট বুঝা যায় সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে পাকিস্তানের অবস্থান কোন পক্ষে। এই প্রশ্নের আনুষ্ঠানিক উত্তর দিতে ওবামা প্রশাসনকে এই বিলটি পাস করানো দরকার।’

‘পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদে সমর্থন জুগিয়েছে কি জোগায় নাই এই বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ওবামাকে ৯০ দিনের মধ্যেই একটি বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে।’

মি: পো আরও বলেন, ‘৩০ দিন পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে একটি ফলোআপ প্রতিবেদন প্রকাশ করতে হবে। এটা ঠিক করতে হবে, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদে মদদদাতা একটি রাষ্ট্র অথবা পাকিস্তানকে এই বিষয়ে আত্মপক্ষ সমর্থন করতে হবে। তাদেরকে বলতে হবে-কেন তাদেরকে এই ধরনের উপাধি দেয়া হবে।’

কেবি