দফায় দফায় ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত সূর্যোদয়ের দেশ এবং আধুনিক জ্ঞান বিজ্ঞানে সমৃদ্ধ জাপান। মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং উন্নত তথ্য-প্রযুক্তির এই দেশ ভৌগলিকভাবে ভূমিকম্প প্রবন এলাকা হিসেবে পরিচিত। গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার দেশটিতে আঘাত আনে অন্তত দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প।
এখন পর্যন্ত ৪১ জন নিহত ও ১,০০০ লোকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেলেও, গৃহহীন হয়েছে ১৯৬,০০০ মানুষ। সেই সঙ্গে শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টিপাত। প্রবল বৃষ্টি এবং ঠাণ্ডায় নাজেহাল গৃহহীন কয়েকশ মানুষ আশ্রয় নিয়েছে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে। তবুও আতঙ্ক কাটেনি। অনেকেই ঘর ছেড়ে বাসার বাইরে গাড়িতে রাত কাটাচ্ছেন। অনেকেরই ঠাঁই হয়েছে খোলা আকাশের নিচে।
উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করতে আরো ২৫,০০০ উদ্ধারকর্মী নিয়োগ করেছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো অ্যাবে। উদ্ধার কর্মীদের তিনি সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তৎপরতা চালাতে বলেন।
স্থানীয় গণমাধ্যম জানাচ্ছে, প্রায় দুই লাখেরও বেশি মানুষকে ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যাবার আহ্বান জানানো হয়েছে। দু’দফা ভূমিকম্পের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হলেও তা আবার সরিয়ে নেয়া হয়।
তবে ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে ভূমিধস ও আরো ক্ষয়ক্ষতির আশংকা করা হচ্ছে। উদ্ধারকর্মীরা আশংকা করছেন ধ্বংসস্তুপে হয়তো আরো অনেকে আটকা পড়ে আছেন। অনেকে বিদ্যুৎ ও পানির অভাবে মানবেতর অবস্থায় দিন কাটাচ্ছে।
প্রায় দুই হাজার মানুষকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে এবং আহতদের মধ্যে কমপক্ষে ২০০ জনের অবস্থা ভালো নয় বলে জানা যাচ্ছে।
জাপানের মাশিকিতে বর্তমানে এক ভুতুড়ে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। তুমুল বৃষ্টি হচ্ছে, প্রচন্ড ঠান্ডা পড়েছে এবং সেখানে এখন কেউ নেই।
অল্প সময়ের ব্যবধানে কয়েক দফা ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কুমামতো শহরের মাইশি এলাকা।
এম আর





