মার্কিন রাষ্ট্রপতির সরকারী বাসভবন ও কার্যালয় হোয়াইট হাউজের সিনিয়র উপদেষ্টা ইভাঙ্কা ট্রাম্প (Ivanka Trump) বাবার যৌন হয়রানির ব্যাপারে এক সাংবাদিকের প্রশ্নে বেশ চটেছেন।
গণমাধ্যমের প্রশ্নের সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, প্রথম সন্তান হিসেবে তার অধিকার রয়েছে নিজের বাবা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বিশ্বাস করার।
সোমবার (২৬ নভেম্বর) এনবিসি নিউজ (NBC News)-কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এই জনপ্রিয় মার্কিন মডেল তারকা তার বাবার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগকে “ভিত্তিহীন (Inappropriate)“ বলে আখ্যায়িত করেছেন।
ইভাঙ্কা এমন প্রশ্নে কিছুটা ক্ষেপে গিয়ে উল্টো সাক্ষাত গ্রহণকারী সাংবাদিককে বলেন, “আমার মনে হয় না যে আপনি আরো অনেক মেয়েকে এমন প্রশ্ন করেছেন।“
ইভাঙ্কা বলেন, একজন মেয়েকে এমন প্রশ্ন করা একেবারেই বেমানান (pretty inappropriate) বিশেষ করে যখন তার বাবা যৌন হয়রানির অভিযোগকে অসত্য বলেছেন এবং বাবার এই দাবির প্রতি তার বিশ্বাস রয়েছে।
ইভাঙ্কা বলেন, "I believe my father. I know my father. So I think I have that right as a daughter to believe my father." অর্থাৎ- “আমি আমার বাবাকে বিশ্বাস করি। আমি আমার বাবাকে চিনি। সুতরাং আমি মনে করি আমার বাবাকে বিশ্বাস করার অধিকার আমার রয়েছে।“
উল্লেখ্য, ইভাঙ্কা ট্রাম্প বর্তমানে হোয়াইট হাউজের সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তবে নিজ বাবার বিরুদ্ধে একের পর এক যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠার প্রেক্ষাপটে তাকে ওই ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়।
সম্প্রতি হলিউড জগতের বড় বড় শক্তিমান ব্যক্তিত্ব ও বিশ্ব রাজনীতির নিয়ন্ত্রক বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে যৌন অসদাচরনের অভিযোগ আসলে তা নিয়ে সর্বত্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
এই হয়রানি বন্ধে আন্দোলনরত নানা গোষ্ঠী ও মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, যৌন হয়রানির শিকার একটি বড় অংশই ভয়, লজ্জা ও ক্যারিয়ারের স্বার্থে প্রায়ই এ ব্যাপারে অভিযোগ দায়ের করার সাহস পান না।
সম্প্রতি হলিউডের প্রোডিউসার হারভে উইনস্টেইন (Harvey Weinstein)-এর বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এ ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই একে একে বিশ্বের এই সর্ববৃহত বিনোদন শিল্পের আরো অনেক বড় বড় ব্যক্তিত্বের বিরুদ্ধে এমন কেলেংকারির তথ্য বেরিয়ে আসে। এমনকি গণমাধ্যম ও রাজনীতি অঙ্গনের অনেক শীর্ষ ব্যক্তিকে এমন কেলেংকারির সাথে জড়িত বলে তথ্য ফাঁস হয়ে পড়ে।
আর এমনই পটভূমিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিষয়টি সামাল দিতে বেশ হিমশিম খাচ্ছে। বিশেষ করে দেশটির গীর্জা, ক্রিড়াঙ্গন ও সংবাদ মাধ্যমের হর্তাকর্তাদের অনেকের বিরুদ্ধেই যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে।
আর আমেরিকার ইতিহাসে সবচেয়ে বিতর্কিত প্রেসেডেন্টদের মধ্যে অন্যতম ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে এরই মধ্যে অন্তত ১৬ জন নারী যৌন অসদাচরণ ও হয়রানির অভিযোগ আনেন। (সূত্র: প্রেসটিভি ও অন্যান্য সংবাদ মাধ্যম)
কেবি





