ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিধ্বস্ত মালয়েশিয়ার যাত্রীবাহী বিমানের নিহত ২৯৮ জনের মধ্যে ১৭৩ জনই নেদারল্যান্ডের নাগরিক বলে জানা গেছে। এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বলেছেন, ইউক্রেনের বিদ্রোহ কবলিত এলাকা থেকে ভূমি থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এর অর্থ রুশপন্থী বিদ্রোহীদেরকেই দায়ী করা হচ্ছে হামলার জন্য। খবর ওয়ার্ল্ডবুলেটিনের।

বৃহস্পতিবারের এই ঘটনায় নিহত যাত্রীদের মধ্যে ৪৪ জন মালয়েশিয়া, ২৭ জন অস্ট্রেলিয়া, ১২ জন ইন্দোনেশিয়া, ৯ জন ব্রিটেনের নাগরিক বলে জানা গেছে। এ ছাড়া বাকি ২০ যাত্রীর জাতীয়তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বুধবার এসব তথ্য জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার পরিবহন মন্ত্রী লিও টিয়ং লাই।

শুক্রবার মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানান পরিবহন মন্ত্রী লিও।

ইউক্রেনের বিদ্রোহী কবলিত ওই রুট দিয়ে কেন যাত্রীবাহী বিমান চালানো হচ্ছিল এ বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন পরিবহনমন্ত্রী। এ প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, মালয়েশিয়ার বিমানের ওই রুট অবৈধ নয়; এটি ইউনাইটেড ন্যাশন ইন্টারন্যাশনাল সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও) স্বীকৃত রুট। এ ছাড়া এই রুটটি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিমান সংস্থা ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে আসছে।

মন্ত্রী লিও বলেন, "আমাদের এয়ারলাইন অনেক বছর ধরেই ব্যবহার করে আসছে। এই রুটটি নিরাপদ হওয়ার কারণেই আমরা এটি ব্যবহার করে আসছিলাম।" তিনি জানান, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ১৬টি বিমান সংস্থার মধ্যে ১৫টিই এই রুট ব্যবহার করে। এ ছাড়া ইউরোপের অনেক বিমান সংস্থাও এই রুট ব্যবহার করে।

তিনি জানান, এই ঘটনার আগের কয়েক ঘণ্টায় ঠিক এই রুট দিয়েই বেশ কয়েকটি যাত্রীবাহী বিমান উড়ে গেছে। আর ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঠিক এক মিনিট আগেও গতিপথ পরিবর্তনের জন্যে বিমানে কোন সতর্কবার্তা পাঠানো হয়নি।

অবশ্য, ইউক্রেনের ওই অঞ্চলে সরকারি বাহিনী ও রুশপন্থী বিদ্রোহীদের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর বিমানের ওই রুট পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়ার কান্তাস বিমানসংস্থা ও দক্ষিণ কোরিয়ার দুটি বিমানসংস্থা। উল্লেখ্য, গত বছরের নভেম্বর থেকে ইউক্রেনের ওই অঞ্চলে সংঘাত চলে আসছে।

অবশ্য, মালয়েশিয়ার বিমান বিধ্বস্তের ঘটনার পর ইউক্রেনের ওই রুট বন্ধ করে দিয়েছে আইসিএও। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার নেদারল্যান্ড থেকে ক্রসহ ২৯৮ জন যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে এমএইচ-১৭ বিমানটি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় বিদ্রোহ কবলিত এলাকায় বিধ্বস্ত হয়। ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমানটি বিধ্বস্ত হয় বলে মোটামুটি নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে, ক্ষেপণাস্ত্র হামলা কারা চালিয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা এক বিবৃতিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জন্যে রুশপন্থী বিদ্রোহীদের দায়ী করেছেন। শুক্রবার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরী বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয় এ বিমান হামলার ব্যাপারে। ঘটনা তদন্ত করে দেখতে একটি তদন্তকারী দল ওই এলাকায় পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে বৈঠক থেকে। সূত্র: ওয়ার্ল্ডবুলেটিন

ঢাকা, ১৯ জুলাই (টাইমনিউজবিডি.কম) এমএ