থাইল্যান্ডের সামরিক জান্তা সরকার যেকোনো উপায়ে যতদিন সম্ভব ক্ষমতায় থাকতে চায় বলে মনে করেন দেশটির ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।একই সঙ্গে থাইল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

২০০৬ সালে রক্তপাতহীন অভ্যুত্থানের মাধ্যমে উৎখাত হওয়ার পর থেকে দেশের বাইরে অনেকটা স্বেচ্ছানির্বাসনে রয়েছেন থাকসিন। সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, দেশে ফেরার ইচ্ছা আছে। দেশের ও জনগণের উপকার করতেই তিনি ফিরতে চান।

থাকসিন বলেন, নির্বাচনের বিষয়ে সামরিক সরকারের প্রতিশ্রুতিতে তার আস্থা নেই। এই সরকারের কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, দুর্নীতি কমাতে সেনা সরকার নতুন সংবিধানের কথা বলছে। আসলে তা তাদের ক্ষমতায় টিকে থাকার কৌশল।

থাইল্যান্ডে সেনা সরকার কতদিন টিকে থাকতে পারে এমন প্রশ্নে থাকসিন বলেন, আচরণ দেখে মনে হচ্ছে, তারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকতে চায়। থাকসিন সিনাওয়াত্রা বলেন, জান্তা সরকার দেশের উন্নয়ন ও ঐক্য বজায় রাখার জন্য কিছুই করেনি। তারা সবার জন্য ন্যায়বিচারও নিশ্চিত করেনি। বরং আইন পরিবর্তন ও সংশোধন করে রাজনৈতিক সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করেছে।

তিনি থাইল্যান্ডের জনগণের বাকস্বাধীনতা, উন্নয়ন ও মানবাধিকার সুনিশ্চিত করতে চান বলেও জানান। থাকসিন বলেন, তিনি ক্ষমতায় বসতে চান না। ৬৭ বছর বয়সে এসে তার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। তিনি শান্তিপূর্ণভাবে জীবনযাপন করতে চান।

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিদেশীরা সে দেশে বিনিয়োগ করতে পারছে না। নিউইয়র্কে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে থাকসিন আরও বলেন, তার আশঙ্কা জান্তা দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও বৈদেশিক বিনিয়োগ ব্যাহত করবে।

 

এমআইএস।