প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করাচি বন্দরে চীনা নৌবাহিনীর জাহাজগুলির মধ্যে একটি টাইপ ০৩৯ ডিজেল-ইলেকট্রিক সাবমেরিন রয়েছে, যার সুনির্দিষ্ট ক্ষমতা রয়েছে। যদিও সেসম্পর্কে পাক নৌবাহিনী গোপনীয়তা বজায় রেখে চলেছে। এছাড়াও, বর্তমানে একটি চাইনিজ টাইপ ৯২৬ সাবমেরিন টেন্ডার রয়েছে, যা সাবমেরিনগুলিকে পুনরায় জ্বালানি ভরতে এবং পানির নিচের জাহাজগুলিকে দুর্দশায় সহায়তা করতে পারে।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এটি ওই এলাকায় চীনা সাবমেরিনের উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। এছাড়াও নৌ মহড়ায় একটি চাইনিজ টাইপ ৫২ডি ডেস্ট্রয়ার, দুটি টাইপ ৫৪ফ্রিগেট এবং একটি টাইপ ৯০৩ রিপ্লেনিশমেন্ট অয়েলার রয়েছে-একটি রিফুয়েলিং এয়ারক্রাফ্ট (এওআর) যা যুদ্ধজাহাজ এবং সাবমেরিনকে দীর্ঘ-পাল্লার অপারেশনগুলি বজায় রাখতে সক্ষম করে। এগুলো নিয়ে আরব সাগরে সপ্তাহব্যাপী মহড়া চলবে। শনিবার, চীনা ও পাকিস্তানী নৌবাহিনী করাচির একটি নৌ ঘাঁটিতে উত্তর আরব সাগরের পানি এবং আকাশসীমায় মহড়া শুরু করে।

রয়টার্সের মতে, এই মহড়ায় সাবমেরিন বিরোধী অভিযান অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এবং এটি ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে। আনাদোলু এজেন্সির মতে, "এই মহড়াটি পাকিস্তান ও চীনের নৌবাহিনীর মধ্যে "দৃঢ় দ্বিপাক্ষিক সামরিক সহযোগিতার প্রতিফলন" এবং "বৃহত্তর দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতাকে উৎসাহিত করবে।"

এনডিটিভি অনুসারে উন্নত চীনা যুদ্ধ গোষ্ঠীর নৌ সম্পদের সংখ্যা এই অঞ্চলে বৃহত্তর ভবিষ্যতের চীনা উপস্থিতির একটি "প্রিলিউড" হতে পারে। চলটি বছরের অক্টোবর মাসে শ্রীলঙ্কার বন্দরে নোঙর করার কথা ছিল শি ইয়ান ৬ নামের একটি চীনা জাহাজের।

বেইজিংয়ের মতে, ওই জাহাজটি নাকি গভীর সমুদ্রে গবেষণা চালাচ্ছে। এখানেই ভারতের দাবি ছিল, চরবৃত্তিই হচ্ছে শি ইয়ান ৬-এর আসল কাজ। যদিও গত সেপ্টেম্বরে চীনের ‘নজরদারি’ জাহাজকে নোঙর করার অনুমতি দেয়নি শ্রীলঙ্কা।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট অনুসারে, চীন সাম্প্রতিক বছরগুলিতে ভারত মহাসাগরের চারপাশে পদচারণা শুরু করেছে। এর মধ্যে রয়েছে চীনা কোম্পানিগুলির পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার বাণিজ্যিক বন্দরগুলিতে নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টা এবং বেইজিং ২০১৬ সালে জিবুতিতে তার প্রথম বিদেশী সামরিক ঘাঁটি অধিগ্রহণ করে। ভ্যাঙ্কুভারের বৃটিশ কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক স্বরণ সিং-এর মতে, এই বর্ধিত পদচারণার মাধ্যমে ভারতের সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী এবং বিমান বাহিনীর প্রধান ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষার সাইটগুলির ওপর নজরদারি চালাতে পারে চীন।

সূত্র : wionews

এনএইচ