প্রচন্ড গরমে দিশেহারা হয়ে উত্তর ভারতের এক গ্রামে ঢুকে পড়ে একটি চিতা। গতকাল (বুধবার) এই ঘটনা ঘটে। তবে, কোন প্রাণহানী তো দূরের কথা, উল্টো চিতা নিজেই ফাঁদে আটকা পড়ে। তাও আবার কোন পাতা ফাঁদ নয়। গ্রামের একটি পরিবারের পড়ে থাকা সামান্য এক সিলভারের কলসিই শেষ পর্যন্ত মরণ ফাঁদ হয়ে দাঁড়ায় ভয়ংকর চিতার কাছে। স্থানীয়ভাবে এটি ঘড়া নামে পরিচিত।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত কয়েকদিনের অসহনীয় গরমে দিশেহারা হয়ে পানির খোঁজে গ্রামে ঢুকে পড়ে চিতাবাঘটি। সিলভারের ওই পাত্রে পানি দেখে তাৎক্ষনিক তা পান করার জন্য মুখ ঢুকিয়ে দেয় চিতা। আর এতেই গলায় আটকে যায় পাত্রটি। শত চেষ্টা করেও পাত্রটি থেকে মুখ বার করতে পারছিল না চিতা।
ভারতের রাজস্থানের রাজমান্দ জেলার সারদুল খেদা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এ সময় গ্রামের বহু মানুষ চিতাটিকে বেশ কাছ থেকে দেখছিলেন। অনেকেই মোবাইলে ছবি তুলছিলেন, ভিডিও করছিলেন।
এভাবে বেশ কয়েক ঘন্টা কেটে যায়। গ্রামের মানুষ কাছ থেকে দৃশ্যটি দেখলেও কেউ সাহস করে বাঘের মুখে আটকে থাকা সিলভারের পাত্রটি খুলে দেয়ার সাহস পাচ্ছিলেন না। কেউ কেউ একটু সাহস করে বাঘের কাছাকাছি গেলেও পাত্রটি স্পর্শ করার দু:স্বাহস দেখাননি।
এদিকে, মুক্তির জন্য আপ্রান চেষ্টা করতে করতে অনেকটাই দুর্বল হয়ে পড়ছিল চিতা। গ্রামের মানুষ বাঘটির কোন ক্ষতি করেননি। তারা শুধুই দৃশ্যটি দেখছিলেন।
বেশ খানিকটা পরে খবর পেয়ে সেখানে ছুটে আসেন বনবিভাগের কর্মকর্তারা। তারা বাঘটিকে মুক্ত করে বনে ছেড়ে দেন। মুক্তি পেয়ে বাঘটিও যেন হাফ ছেড়ে বাঁচলো। কোন ধরনের হিংস্রতা দেখায়নি চিতা।
বনকর্মকর্তারা প্রথমে বাঘটিকে ঘুম পাড়ানি ইনজেকশান দেন। এ সময় ঘড়া নামের পানির কলসি মুখে নিয়েই ঘুমের কোলে ঢলে পড়ে চিতা। যখন ঘুম ভাঙ্গে নিজেকে বন বিভাগের খাঁচায় দেখতে পায় চিতা।
বনবিভাগের কর্মকর্তা কপিল শর্মা বলেন, পুরুষ চিতাটির বয়স তিন বছর। এটিকে মুক্ত করার পর বেশ কিছুক্ষণ পর্যবেক্ষনে রাখা হয়। কোন ধরনের বিরুপ প্রতিক্রিয়া না পেয়ে বাঘটিকে পরবর্তীতে বনে ছেড়ে দেয়া হয় বলেও জানান ওই বনকর্মকর্তা।
তবে, বাঘটি ঠিক কোন জঙ্গল থেকে এসেছিল তা বলা কঠিন বলে জানান বনকর্মকর্তা শর্মা। ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে কুম্বালঘর অভয়ারন্যের অবস্থান হওয়ায় সেখান থেকেও বাঘটি এসে থাকতে পারে বলেও ধারনা শর্মার।
কেবি





