মিয়ানমারে পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার দায়ে বিবিসি-র এক সাংবাদিককে তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে।
সোমবার মিয়ানমারের একটি আদালত ওই রায় দেয়। বিবিসি মিয়ানমার ল্যাংগুয়েজ সার্ভিসের দণ্ডপ্রাপ্ত ওই সাংবাদিকের নাম নেই মাইও লিন।
তার বিরুদ্ধে গত বছর মিয়ানমারে ছাত্রদের বিক্ষোভ চলাকালে খবর সংগ্রহ করার সময় একজন পুলিশ সদস্যকে আক্রমণ করার অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হয়েছে।
লিনের আইনজীবী থেইন থান ও রয়টার্সকে বলেন, গত বছর একটি মোটর শোভাযাত্রা চলাকালে হঠাৎ করেই আমার মক্কেল ও একজন পুলিশের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। শোভাযাত্রার সময় ওই পুলিশ সদস্য রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন এবং এক ব্যক্তিকে তার মোটরবাইক থেকে টেনে নামিয়ে ফেলেন, যা থেকে ওই ধস্তাধস্তির সূত্রপাত।
এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
লিনের আইনজীবী জানান, তিনি এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। গত বছর মার্চে একটি শিক্ষা বিলের বিরুদ্ধে মিয়ানমারের শত শত শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করে।
ওই সময় একদল শিক্ষার্থী মিয়ানমারের সবচেয়ে বড় নগর ইয়াংগুনে একটি শোভাযাত্রার আয়োজন করে। কিন্তু শোভাযাত্রা শুরু হওয়ার কিছুক্ষণ পর দাঙ্গা পুলিশ শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করে দিতে ব্যাপক লাঠিপেটা করে ও ধড়পাকড় চালায়। এখনও বেশ কয়েকজন ছাত্র নেতার বিচার চলছে।
রায় ঘোষণার পর লিন সাংবাদিকদের বলেন, “একজন পুলিশের সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বিক্ষোভরত একজন শিক্ষার্থীকে তার মোটরসাইকেল থেকে টেনে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে আমার বিরুদ্ধে ৩৩২ ধারায় অভিযোগ গঠন কোনো ভাবেই ন্যায্য হয়নি।”
“আমি ওই পুলিশ সদস্যকে আঘাত করতে চাইনি। বরং আমি মিয়ানমারের একজন নাগরিককে সুরক্ষা দিতে চেয়েছিলাম, যার সঙ্গে আমার সামনে খুব অন্যায় আচরণ করা হচ্ছিল।”
পুলিশ আদালতকে প্রভাবিত করে থাকতে পারে বলে মনে করেন লিন।
জবাবে পুলিশ কর্নেল জাউ খিন অং বলেন, “পুলিশের পক্ষে আদালতকে প্রভাবিত করা একেবারেই সম্ভব নয়। এটি সম্পূর্ণরূপে বিচারকদের সিদ্ধান্ত, যারা মামলার শুনানি করেছেন এবং সেই ভিত্তিতে চূড়ান্ত রায় জানিয়েছেন।”
মিয়ানমারে পুলিশ এবং বিচারবিভাগ সেনাবাহিনী নিয়ন্ত্রিত।
এফএফ





