অবশেষে হংকংয়ের বিক্ষোভের অন্যতম প্রধান আয়োজক ছাত্রনেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে যাচ্ছে উচ্চপর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তারা বৈঠকে বসবেন বলে জানা গেছে। খবর রয়টার্সের। উল্লেখ্য, টানা তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলা বিক্ষোভে হংকং ব্যাপক অস্থিতিশীলতার মধ্যে পড়েছে।
তবে, আজকের এই বৈঠক থেকে আশানুরূপ কোন সমাধান বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন না অনেকেই। কোন পক্ষই তাদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসবে বলে মনে হচ্ছে না। বৈঠকটি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোতে সরাসরি সম্প্রচার করা হবে।
হংকংয়ের প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে এই বিক্ষোভের শুরু। বিক্ষোভকারী তথা হংকংয়ের বেশিরভাগ মানুষই চাচ্ছেন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় ভোটাভুটির মাধ্যমে প্রশাসক নির্বাচিত করতে। তবে, চীনের কেন্দ্রীয় সরকার চায়, ভোটাভুটি গণতান্ত্রিকভাবেই হবে, কিন্তু যারা নির্বাচনে অংশ নিবেন তাদেরকে বেইজিংয়ের অনুমোদনপ্রাপ্ত হতে হবে। অর্থ্যাৎ যেসব ব্যক্তি বেইজিংয়ের আস্থাভাজন কেবল তারাই নির্বাচন করতে পারবেন। তার মানে যে-ই নির্বাচিত হোক না কেন বেইজিংয়ের কোন মাথাব্যথা থাকছে না। আর এটা নিয়েই বিপত্তি। হংকংয়ের অধিবাসীরা বেইজিংয়ের এই আধিপত্যশীল নীতিকে মেনে নিতে পারছেন না।
এদিকে, চীন বলেছে হংকং-কে অনেক ছাড় দেয়া হয়েছে। হংকং অনেক স্বাধীনতাও ভোগ করেছে বলে বেইজিং দাবি করেছে। এভাবে নির্বাচনের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের আরেকটি বড় যুক্তি হচ্ছে, হংকংয়ের সংখ্যালঘিষ্ঠ দরিদ্র ও শ্রমিক শ্রেণী বেইজিংয়ের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিনিধিত্ব করার সুযোগ পান। কিন্তু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রার্থীরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে দরিদ্র ও শ্রমিক শ্রেণীর এই সুযোগটি আর থাকবে না।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে এই প্রশাসক নির্বাচন হবে। বর্তমান বেইজিংয়ের আশীর্বাদপুষ্ট প্রশাসক লিয়ুং চুন ইং ২০১২ সালে নির্বাচিত হন। তিনি হংকংয়ের বিক্ষোভকারীদের দাবি মেনে নেয়াকে অসম্ভব বলে আখ্যায়িত করেছেন। এমতাবস্থায় আজকের বৈঠক ফলপ্রসূ হবে বলে মনে করাটা কঠিন হবে। সূত্র: রয়টার্স
এসএমএ





