বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস নির্মূল ও অবৈধ পথে অর্থ লেনদেন প্রতিরোধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ আরও গভীরভাবে কাজ করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে অনুষ্ঠিত দুইদেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব বিষয়ক সংলাপে অন্য বিষয়ের পাশাপাশি সন্ত্রাস নির্মূলের এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস বৃহস্পতিবার সকালে এই তথ্য জানায়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, সংলাপে উন্নয়ন ও সুশাসন, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। এছাড়া দুই দেশের দ্বি-পাক্ষিক ইস্যুর মধ্যে টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, সাইবার নিরাপত্তা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, শান্তিরক্ষা কার্যক্রম, সন্ত্রাস দমন, আঞ্চলিক নীতি, ব্লু অর্থনীতি, জ্বালানি সহযোগিতা, শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক বিনিময়— এই বিষয়গুলো বিস্তারিতভাবে বৈঠকে আলোচনা করা হয়।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক স্বার্থে দুই দেশ বিভিন্ন ইস্যুতে একসঙ্গে কাজ করতে সংলাপে ঐক্যমত পোষণ করেছে। সংলাপ শেষে দুই দেশের মধ্যে একটি যৌথ ইশতেহার স্বাক্ষরিত হয়।
বিশ্বব্যাপী সন্ত্রাস নির্মূল এবং অবৈধ পথে অর্থ লেনদেন প্রতিরোধ বিষয়ে যৌথ ইশতেহারে দুইদেশ একত্রে কাজ করার কর্মসূচি আরও গভীরভাবে চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে।
যার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্বের স্বীকৃত ফোরাম ফিন্যান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্কফোর্সে (এফএটিএফ) আওতায় সামনের ডিসেম্বরে ঢাকায় দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের সন্ত্রাস নির্মূল ও অবৈধ পথে অর্থ লেনদেন প্রতিরোধ বিষয়ে আঞ্চলিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ সরকারের সহায়তা নিয়ে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস ও দেশটির স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই কর্মশালার আয়োজন করবে।
ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস জানায়, সংলাপে যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকের নিরাপত্তা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়ে জোর দিয়েছে। বিশেষ করে পোশাক খাতের কর্মীদের নিরাপত্তা ও কর্মপরিবেশ উন্নয়নের উপর সংলাপে জোর দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকের মান উন্নয়ন ও অধিকার প্রতিষ্ঠায় দেশটি এই খাতে ১০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। এই খাতের উন্নয়নে সামনে আরও ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের আর্থিক সহায়তা করার পরিকল্পনা করেছে।
প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের মধ্যে তৃতীয় অংশীদারিত্ব বিষয়ক তিনদিনের সংলাপ গত ২৯ অক্টোবর শেষ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে এই সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। দুই দেশের মধ্যে চতুর্থ অংশীদারিত্ব বিষয়ক সংলাপ সামনের বছর ঢাকায় অনুষ্ঠিত হবে।
সংলাপে বাংলাদেশের পক্ষে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে ছিলেন পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক।অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি ইউন্ডি শেরমান দেশটির প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেন।
এএইচ





