দাভুতোগ্লু প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোগানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও সাম্প্রতিক সময়ে ক্ষমতা ভাগাভাগি নিয়ে দুনেতার দ্বন্দ্ব চরমে পৌঁছেছে। এরদোগান চাচ্ছেন আরো বেশি নির্বাহী ক্ষমতা।

তুরস্ক মূলত সংসদীয় গণতন্ত্রের দেশ। এখানে প্রেসিডেন্টের কিছু নির্বাহী ক্ষমতা থাকলেও মূল ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রীর হাতে।

বিরোধের মধ্যেই বুধবার রাতে দুই নেতা বৈঠকে মিলিত হন বলে তুরস্কের কর্মকর্তারা জানান। এখনো দাভুতোগ্লুর পদত্যাগের কোনো সিদ্ধান্ত ঘোষণা হয়নি।

ক্ষমতাসীন জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টির জরুরি এক সভায় এ ব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে দাভুতোগ্লু আর থাকছেন না বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা।

দলীয় বৈঠকের পর বৃহস্পতিবার দাভুতোগ্লু এক সংবাদ সম্মেলনে এ সম্পর্কে মুখ খুলতে পারেন বলে তুরস্কের গণমাধ্যম জানিয়েছে।

দাভুতোগ্লু ২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি এরদোগানের অনুগত বলে মনে করা হয়। এরদোগানের নেতৃত্বে তুরস্কের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির অন্যতম রূপকার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দাভুতোগ্লু।

প্রাদেশিক নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়ন নিয়ে গত সপ্তাহে এরদোগান ও দাভুতোগ্লুর মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায় বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলীয় প্রধান হিসেবে দাভুতোগ্লু দলীয় মনোয়ন দেয়ার ক্ষমতা নিজের হাতে রাখতে চেয়েছিলেন।

প্রকাশ্যে দাভুতোগ্লু এরদোগানের অনুগত্য দেখালেও সাম্প্রতিক সময়ে নানা ইস্যুতে তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়েছে। তুরস্কের সংবিধান সংশোধন করে প্রেসিডেন্টকে নির্বাহী ক্ষমতা দেয়ার বিরোধিতা করছেন দাভুতোগ্লু।

এছাড়া বিচ্ছিনতাবাদী কুর্দিদের সাথে আলোচনার পক্ষে দাভুতোগ্লু অবস্থান নিলেও এরদোগান তাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের পক্ষে। অন্যদিকে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বায়ত্বশাসনের পক্ষে দাভুতোগ্লু আর এরদোগান চাচ্ছেন সুদের হার কমানোর মত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সরকারের হস্তক্ষেপ করার সুযোগ।

ক্ষমতাসীন একেপির জরুরি কংগ্রেসে দলের নতুন প্রধান নিয়োগ করা হবে যিনি পরবর্তীতে হবেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র: নিউইয়র্ক টাইমস
এসএম