গাড়ি চালানোর দায়ে আটক সৌদি নারী ও তার সহযোগীকে সন্ত্রাস বিরোধী আদালতে পাঠানো হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই দুই নারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ চার ব্যক্তি এ কথা জানিয়েছেন। সৌদি সরকারের রোষানলে পড়ার ভয়ে নাম প্রকাশে করেননি তারা।

প্রায় এক মাস আগে গাড়ি চালানোর অভিযোগে সংযুক্ত আরব আমিরাত সীমান্ত থেকে লুজাইন হাথলুল এবং মায়শা আলমোদিকে আটক করা হয়েছিল। অবশ্য, টুইটারসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মতামত প্রকাশ করার দায়ে তাদেরকে সন্ত্রাস বিরোধী আদালতে তোলা হয়। দু'জনই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সৌদি আরবে নারীর ওপর গাড়ি চালানোর বিষয়ে বিধি-নিষেধের বিরুদ্ধে মতামত দিয়েছিলেন। অবশ্য, তাদের দেয়া কোন বক্তব্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে সুনির্দিষ্টভাবে তা জানানো হয় নি।

বিশেষায়িত এই ফৌজদারি আদালত সৌদি রাজধানী রিয়াদে স্থাপন করা হয়েছে। সন্ত্রাস সংক্রান্ত মামলা পরিচালনার জন্য এটি প্রতিষ্ঠার কথা বলা হলেও এর আগে এ আদালতে মানবাধিকার কর্মীদের বিচার করা হয়েছে এবং তাদের কঠোর শাস্তিও দেয়া হয়েছে। শেখ নিমার আল নিমারের প্রাণদণ্ড এবং মানবাধিকার বিষয়ক আইনজীবী ওয়ালিদ আবদুল-খায়েরের ১৫ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে এ আদালত।

বিশ্বে সৌদি আরব হচ্ছে- একমাত্র দেশ যেখানে নারীদের গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ। নারীদের গাড়ি চালানো বন্ধ করে দেয়ায় দেশটিতে বহুদিন ধরেই আন্দোলন চলে আসছে। আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ সম্প্রতি শর্তসাপেক্ষে গাড়ি চালানোর অনুমতি দিয়েছে।

সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, ৩০ বছরের বেশি বয়সি মহিলারা গাড়ি চালাতে পারবেন। তবে গাড়ি চালাতে গিয়ে মুখে কোনোরকমের মেকআপ বা সাজসজ্জা ব্যবহার করা যাবে না। গাড়ি চালানো যাবে সকাল ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত। নারীরা নিজ নিজ শহরের মধ্যে গাড়ি চালাতে পারেন, তবে শহরের বাইরে গেলে অবশ্যই একজন পুরুষ সঙ্গী থাকতে হবে। রেডিও তেহরান

ইআর