যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার (১৬ জুন) ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দাদের শহর ছেড়ে চলে যেতে বলার কিছুক্ষণ পর থেকেই তেহরানে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যেতে থাকে। কানাডায় জি-৭ সম্মেলনে ট্রাম্প এমন মন্তব্য করেন। ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পঞ্চম দিনের মত যখন হামলা-পাল্টা হামলা চলছে, তখন সংঘাত ছাপিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের এ বার্তা উঠে এসেছে আলোচনার কেন্দ্রে।

ট্রাম্প তার মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক বার্তায় মন্তব্য করেন, সবার অতিসত্ত্বর তেহরান ছেড়ে যাওয়া উচিত।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরি করতে পারবে না। একইসাথে তেহরানের বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার বিষয়টিও উল্লেখ করেন তিনি।

জি-৭ সম্মেলনের জন্য সোমবার কানাডায় থাকলেও মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে গেছেন বলে জানা গেছে হোয়াইট হাউজের পক্ষ থেকে।

কানাডায় থাকাকালীন এক সাক্ষাৎকারে তিনি এমনও ইঙ্গিত দেন যে ইসরাইল ও ইরান শিগগিরই সমঝোতায় আসতে যাচ্ছে।

এক প্রশ্নোত্তর পর্বে মার্কিন প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি ইরানকে ৬০ দিন সময় দিয়েছিলাম পরমাণু চুক্তিতে আসার জন্য। আর ৬১তম দিনে কী হলো আপনারা সবাই দেখেছেন। আমি প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি। আর আমি যেমন বলেছি, আমার মনে হয় দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর হবে। আমার মনে হয় চুক্তি না করলে ইরান বোকার মত কাজ করবে।’

বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন তেহরানের মানুষকে সরে যাওয়ার কথা বলে ইরানকে চাপের মুখে ফেলে ইসরাইলের সাথে সমঝোতা করানোর চেষ্টা করছেন ট্রাম্প।

এদিকে, ওয়াশিংটনে ফিরেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডেকেছেন বলে যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম খবর প্রকাশ করছে। জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও জাতীয় গোয়েন্দা বিভাগের পরিচালককে নিয়ে গঠিত। এ পরিষদ প্রেসিডন্টেকে জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে উপদেশ দিয়ে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইরানে ইসরাইলের চলমান অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র যোগ দেয়নি।

ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠক ডাকলেও ওয়াশিংটন ইসরাইলের চলমান অভিযানে যোগ দেবে না বলে খবর প্রকাশ করেছে বিবিসির যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী সিবিএস নিউজ।

কিন্তু এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সেখানে সেনা উপস্থিতি বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।

তিনি এ-ও জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ‘অতিরিক্ত সেনা উপস্থিতি’ নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত জানানো হলেও তা কেবলমাত্র ওই অঞ্চলে ওয়াশিংটনের ’সুরক্ষা’ নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার তার দেয়া এক বার্তায় উল্লেখ করেছেন, ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীকে নিরস্ত করার জন্য ওয়াশিংটন থেকে একটি ফোনকলই যথেষ্ট।

তবে কূটনৈতিকভাবে সংঘাত থামানোর নানা প্রচেষ্টা চলতে থাকলেও ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মিসাইল ও বিমান হামলা থামছে না। সোমবার রাতে তেহরানের বেশ কিছু এলাকাসহ ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবনে হামলা করে ইসরাইলি বাহিনী।

ইসরাইলের টানা হামলা আর শহর ছেড়ে যাওয়ার হুমকি জারি থাকায় সোমবার দুপুর থেকেই তেহরান ছেড়ে যেতে থাকে হাজার হাজার মানুষ। রাতে তেহরানের বিভিন্ন এলাকায় ট্রাফিক জ্যামও দেখা গেছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ভবন ছাড়াও পশ্চিম ইরানের দুটি মিসাইল ঘাঁটিতে হামলা করেছে ইসরাইল। অন্যদিকে ইরানও ইসরাইলের বড় শহরগুলোতে হামলা অব্যাহত রেখেছে। আজ মঙ্গলবার ভোরেও তেল আবিব, জেরুসালেমসহ ইসরাইলের বেশ কয়েকটি শহরে সাইরেনের শব্দ শোনা গেছে।

সূত্র : বিবিসি

এনএইচ