ভারতের এক উগ্র হিন্দু আইনজীবী শুক্রবার ঘোষণা দিয়েছেন ২৫ ডিসেম্বর খ্রিস্টানদের বড়দিনের দিন কয়ক'শ মুসলমান ও খ্রিস্টানকে হিন্দু বানানো হবে। কিছুদিন আগে দুই শতাধিক মুসলমানকে জোরপূর্বক হিন্দু বানানোর তদন্ত চলার মধ্যেই নতুন এই ঘোষণা আসলো। খবর রয়টার্সের।
বহু ধর্মের মানুষের বাস ভারতের মৌলিক চেতনা ধর্মনিরপেক্ষতা এখন হুমকির মুখে বলে অভিযোগ করছেন মুসলমানদের বিভিন্ন সংগঠন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দল এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দলগুলোই এই কাজ করছে বলে তাদের অভিযোগ।
এই সপ্তাহেই আগ্রায় বস্তিবাসী দরিদ্র দুই শতাধিক মুসলমানকে রেশন ও ভোটার আইডি কার্ড দেয়ার লোভ দেখিয়ে জোরপূর্বক হিন্দু বানানো হয়। তাদেরকে হিন্দু বানানোর সঙ্গে উগ্রপন্থী হিন্দু দল জড়িত।
কিন্তু বিজেপি থেকে চারবার পার্লামেন্ট সদস্য নির্বাচিত যোগী আদিত্যনাথ জানান, বড়দিনের দিন আলীগড় শহরে মুসলমানদেরকে হিন্দু ধর্মে ধর্মান্তরিত করার যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হচ্ছে তা পুরোপুরি স্বেচ্ছাসেবকমূলক কাজ। গত ১০ বছর ধরে আমরা এই কাজ করে আসছি। এটিকে ধর্মান্তর না বলে বরং 'ঘরে ফেরা' বলতে হবে। কারণ তারা এক সময় হিন্দুই ছিল।
ভারতে ১২০ কোটি হিন্দু ধর্মাবলম্বীর বাস। অন্যদিকে, মুসলমান রয়েছে প্রায় ১৬ কোটি। এ ছাড়া অল্প সংখ্যক খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীও রয়েছে দেশটিতে। সংবিধান অনুযায়ী সব ধর্মের মানুষের অধিকার সমান। কিন্তু, হিন্দুত্ববাদী দল বিজেপি চলতি বছর দেশটির ক্ষমতায় আসার পর থেকে বিভিন্ন উগ্র হিন্দু দলগুলো মাথাছাড়া দিয়ে উঠেছে। উগ্র হিন্দু দলগুলোর তৎপরতা সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভীতি ছড়িয়ে দিচ্ছে।
গত সপ্তাহে হিন্দু ছাড়া অন্যান্য ধর্মাবলম্বীদের সম্বন্ধে বিরুপ মন্তব্য করেন এক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী। এ ছাড়া শুক্রবারে বিজেপির উগ্র এক পার্লামেন্ট সদস্য সাক্ষী মহারাজ তার মহাত্মা গান্ধী সম্পর্কে তার বিরুপ বক্তব্য প্রত্যাহার করতে বাধ্য হন। তিনি মন্তব্য করেছিলেন, মহাত্মা গান্ধীর হত্যাকারীরা ছিল দেশপ্রেমিক।
সাক্ষীর এ বিরুপ মন্তব্য প্রত্যাহার করার আগ পর্যন্ত পার্লামেন্টে বিরোধী দলের সদস্যরা কোন ধরনের আলোচনায় অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানান।
সাক্ষীর এ বক্তব্য সম্পর্কে পার্লামেন্টে কংগ্রেস সদস্য হুসেইন দালউয়াই বলেন, "এই লোক উন্নয়নের কথা বলেন। কিন্তু তিনি সমাজে বিভক্তি তৈরি করারও চেষ্টা করেন।"
বিজেপি অবশ্য ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ব্যাপারে পক্ষপাতিত্বমূলক নীতির কথা অস্বীকার করেছে। মোদী জানিয়েছেন, তিনি সকল ভারতীয়র অর্থনৈতিক জীবনমান উন্নয়নের উপর জোর দিচ্ছেন।
এদিকে, মুলায়ম সিং যাদব হুঁশিয়ার দিয়ে বলেছেন, "ধর্মান্তরকরণ কেবল শুরু হয়েছে। যদি তা ভারতের অন্যান্য অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়ে তবে দাঙ্গা দেখা দিবে।" সূত্র: রয়টার্স
এমএ





