জম্মু-কাশ্মিরের আনন্তনাগ জেলায় অমরনাথ যাত্রার পুণ্যার্থীদের বাসে সোমবার সন্ধ্যায় এক সন্ত্রাসী হামলায় ৫ জন নারীসহ কমপক্ষে সাতজন নিহত হয়েছেন, আহতের সংখ্যা ১৫ বলে জানা গেছে।

তীর্থযাত্রীদের বহনকারী বাসটি ছাড়াও সন্ত্রাসীরা বান্টিগো এলাকায় পুলিশের একটি দলকে আক্রমণ করে। জানিয়েছে ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস। 

জম্মু-কাশ্মিরের পুলিশ জানায়, গ্রেফতারকৃত লস্কর-ই-তৈয়বার দুই ব্যক্তিকে সাথে নিয়ে উগ্রবাদী গোষ্ঠিটির ঘাঁটির সন্ধানে অভিযান চালানোর কয়েক ঘন্টা পর এ হামলা চালানো হয়। ৫৬ জন বাস যাত্রীর অধিকাংশই গুজরাটের অধিবাসী বলে জানা গেছে। সন্ধ্যা ৭ টার পর যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করেছিল বাসটি। 

প্রধানমন্ত্রী এক টুইটার বার্তায় এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে রাজ্য সরকারকে পরিস্থিতি মোকাবেলার নির্দেশ দিয়েছেন। 

কংগ্রেসের ভাইস-প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধী বলছেন, 'এই সন্ত্রাসী দস্যুদের ভারত কখনই ভয় পায় না। এটি গুরুতর নিরাপত্তা অব্যবস্থাপনার ফল। প্রধানমন্ত্রীকে এর দায়িত্ব নিতে হবে যাতে এ ধরনের হামলা আবার না ঘটে।' 

এদিকে পুলিশ বলছে, তীর্থযাত্রী বহন করা বাসটি আইন ভঙ্গ করেছে। সন্ধ্যার ৭ টার পর যাত্রা না করার নিষেধাজ্ঞা থাকলে বাসের ড্রাইভার তা মানেনি। এছাড়া আরো জানা যায়, বাসটি অমরনাথ যাত্রা কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিবন্ধিত ছিল না। 

বিজেপি সভাপতি অমিত শাহও হামলার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, 'অমরনাথের পবিত্র মন্দিরে যাওয়ার জন্য নির্দোষ তীর্থযাত্রীদের হত্যাকান্ডে শোক প্রকাশে আমার কোন ব্যবস্থা নেই। নিহতদের পরিবারের জন্য আমার প্রার্থনা রইল এবং আহতদের দ্রুত সুস্থ্য হয়ে উঠার কামনা করছি।' 

প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছেন, 'এই ঘটনা সন্ত্রাসবাদকে নিশ্চিহ্ন করতে আমাদের আরো সংকল্পবদ্ধ করবে।' 

ন্যাশনাল কনফারেন্সের নেতা ওমর আবদুল্লাহও নিন্দা জানিয়ে হতাহতদের পরিবারের প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। তিনি আরো বলেন, 'নিরাপত্তা বাহিনীর সাম্প্রতিক সাফল্য সত্ত্বেও হিন্দুদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান অমরনাথের যাত্রায় হামলার আশঙ্কা করেছিলাম।' 

এর আগে, জম্মুতে স্বাধীনতাকামী যোদ্ধা কমান্ডার বুরহান ওয়ানি মৃত্যুবার্ষিকীতে উদ্ভূত পরিস্থিতি কাউফিউ জারি করায় অমরনাথের যাত্রা স্থগিত করা হয়েছিল।

এমএনজে