বাঘিনীর হাত থেকে বেঁচে ফেরা চাট্টিখানি কথা না। বনের অনেক তাগড়া বড় পশুকেও শিকারি বাঘের কাছে কুপোকাত হতে হয়। তবে বড় নয়, ছোট একটি হরিণের কাছে খোদ বাঘিনীকেই কুপোকাত হতে হলো। সম্প্রতি ভারতের মধ্যপ্রদেশের বান্দবঘরে বাঘের জন্য সংরক্ষিত বনে এ ঘটনা ঘটেছে।
প্রায় ২০ মিনিট ধরে চলা লড়াইটি সৌভাগ্যক্রমে ক্যামেরাবন্দি করতে পেরেছেন বন্য প্রাণীবিষয়ক চিত্রগ্রাহক সুধীর শিভারম। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইল সুধীরের সেই ছবিগুলো নিয়ে মঙ্গলবার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

সুধীর বলেন ‘বাঘিনীটির চারটি শাবক রয়েছে। বাচ্চাগুলোকে খাওয়ানোর জন্য এটি শিকারে বের হয়েছিল। আমরা সাফারি পার্কে প্রবেশের পর দেখতে পেলাম বাঘিনী সাম্বার প্রজাতির একটি হরিণের পিছু নিয়েছে। হরিণটি দৌড়ে পাহাড়ের নিচে চলে এসেছিল। বাঘিনীটি হরিণের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং এটিকে তার থাবার নিচে নিয়ে আসার চেষ্টা করে। পুরো লড়াইটা ছিল প্রায় ২০ মিনিটের। হরিণটি ছিল যোদ্ধা।’

বেঙ্গালুরু থেকে আসা এই চিত্রগ্রাহক বলেন, হরিণটি হার মানছিল না। পুরোটা সময় সে পালানোর চেষ্টা করছিল। বাঘিনীটি বারবার হরিণটিতে ধরাশায়ীর চেষ্টা করছিল। এমনকি একপর্যায়ে হরিণটির মৃত্যু নিশ্চিত করতে বাঘিনীর চারটি শাবকও লড়াইয়ে যোগ দেয়। বাঘিনীটি ওই হরিণটিকে নিচে ফেলার চেষ্টা করছিল এবং একটি ব্যাঘ্র শাবক হরিণটির ওপরে উঠে যায়। কিন্তু হরিণটি ফের ওপরে উঠে যায়। হরিণটি একপর্যায়ে বাঘিনীর মুখে লাথি মারে এবং পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
সুধীর জানান, লড়াইয়ে হরিণটি প্রচুর রক্ত ঝড়িয়েছে। কিন্তু এরপরেও এটি পালাতে পেরেছে।
তিনি বলেন, ‘আমি এই প্রথমবার এত কাছে থেকে বাঘের হরিণ শিকারের চেষ্টা দেখতে পেলাম। আমরা সঠিক সময়ে সঠিক স্থানে উপস্থিত ছিলাম। এটা খুবই দুর্লভ সুযোগ।’
এফএফ





