যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল আসতে আর কিছু সময় বাকি। এরই মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যেরে ফলাফল চলে এসেছে এবং দেখা যাচ্ছে ট্রাম্প হিলারির তুলনায় অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন।
নির্বাচনের এই ফলাফলকে ঘিরে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম রীতিমতো সরগরম হয়ে উঠেছে।

 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ের সম্ভাবনা দেখে মানুষের বিস্ময় আর তীব্র প্রতিক্রিয়াই মূলত প্রকাশ পাচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। কারণ কিছুদিন আগেও ধারণা করা হচ্ছিল হিলারি ক্লিনটন আগাম জয় পেয়ে যাবেন, অথচ তীব্র সমালোচনার মুখে পড়া ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন জয়ের দিকে এগুচ্ছেন!
ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে বসবাসকারী এক বাংলাদেশী তরুণী শারমিন শহীদ তার ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘মনে হচ্ছে যেন সিএনএন-এ বিশ্বকাপ দেখছি।

এই প্রতিযোগিতা আর খুব বেশী সময় সইতে পারব না। হিলারি এগিয়ে যাও। বিশ্বকে বিরাট লজ্জা থেকে বাঁচাও।’হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা মর্গ্যান ফ্রিম্যান টুইট করেছেন ‘প্রতিদিন আমি ভাবতাম সামনেই হিলারির বিজয়ী বক্তব্য শুনবো। একজন পরাজিত মানুষ মনে হচ্ছে নিজেকে’।

 

হ্যারি পটার সিরিজ খ্যাত লেখিকা জে কে রাউলিং টুইটারে লিখেছেন, ‘যা-ই ঘটুক, ইতিহাস হবেই। কিন্তু সেটা হোক ভাল কিছু। প্লিজ, প্লিজ ভাল কিছু হোক’।বাংলাদেশ থেকে ফারহানা ফাবিন ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন ‘ট্রাম্প জিতুক হারুক সেটা পরের কথা, ট্রাম্পের এত সাপোর্টার আছে সেটা দেখেইত আমি অবাক!!!”

সোনাল নামে একজন বিবিসির ফেসবুক পাতায় লিখেছেন, ‘তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে!’
প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণার সময় ট্রাম্প তাঁর বিতর্কিত মন্তব্যের কারণের সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসেন। বিশেষ করে অভিবাসী, মুসলিম ও নারীদের নিয়ে মন্তব্যের জের ধরে তাকে তীব্র তোপের মুখেই পড়তে হয়। তখন হিলারিও জরিপে এগিয়ে ছিলেন।

 

যদিও ইমেইল কেলেঙ্কারি ও এফবি আই এর তদন্তের বিষয়টি নিয়ে হিলারি শিবিরে কিছুটা অস্বস্তি কাজ করছিল।তবে আজকের ফলাফলের আগেও কেউ ধারণা করেননি যে এমন হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প এতটা এগিয়ে থাকবেন।আর ট্রাম্পকে জয়ের এত সন্নিকটে দেখে সামাজিক মাধ্যমে বেশিরভাগের মন্তব্যই ছিল হতাশাসূচক।

আল মাহমুদ নামে একজন মন্তব্য করেছেন ‘ট্রাম্প যদি প্রেসিডেন্ট হয় তাহলে বুঝতে হবে আমেরিকার বেশিরভাগ মানুষ খারাপ’।রুদ্রানী রুদ্রা নামের একজনরে মন্তব্য, ‘ক্ষমতায় যেই আসুক। পররাষ্ট্র নীতিতে তারা সবাই সমান।’জে ইসলাম জায়েদ তালুকাদারের মন্তব্য ‘ট্রাম্প কেমনে এগিয়ে থাকে মাথায় কিছু আসে না। মাথা গরম হয়ে আছে’।

আমেরিকায় জেন্ডার সমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশিদের অনেকে। তবে বিস্ময় বা হতাশাসূচক মন্তব্যের পাশাপাশি কিছু বাংলাদেশির মন্তব্যে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনও দেখা গেছে। আর মজার বা ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্যেরও কমতি নেই।যেমন শরিফ ইসলাম নামে একজন লিখেছেন ‘আমি চাই ট্রাম্প জিতুক। হিলারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকার সময়ে সিরিয়া ও লিবিয়াকে ধ্বংস করেছে। যার ফল এখন আমরা চোখে দেখছি। বিশ্বকে করেছে অনিরাপদ।’

 

অন্যদিকে হাবিব মমতাজ চৌধুরি লিখেছেন ‘যারা যারা ট্রাম্পের কাছে চিকন পিনের চার্জার চেয়ে মেসেজ দিয়েছিলেন তারা সাবধানে থাকবেন।’
এখানে উল্লেখ্য নির্বাচনের আগের দিন বাংলায় অনেকে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে টুইটারে মেসেজ করছিলেন এবং তার বদলে উত্তরও পাচ্ছিলেন ‘উন্নত ও নতুন আমেরিকা গড়তে ট্রাম্পকে ভোট করুন, আর মাত্র কয়েক ঘন্টা বাকি’।

''নাছের''